সম্রাট গুপ্তঃ অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়ে কিভাবে ঠকাচ্ছে CESC? শহর এবং শহরতলীর কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কথা। আগে যাদের মাসিক ৫০০-১০০০ টাকা মাসিক বিল আসতো। এক ধাক্কাতেই এমাসে তাদের বিল আসছে ৪০০০-১০০০০ মধ্যে। কেন এমন হচ্ছে?
CESC কোর লকডাউনের সময়ে মার্চ, এপ্রিল,মে মাসের কোন রিডিং নেয়নি। আগের বছর ঐ মাসের খরচ কিংবা গত ছয়মাসের গড় টাকা বিল পাঠিয়েছে। এখন জুনে এসে চারমাসের(মার্চ, এপ্রিল,মে,জুন) রিডিং একসাথে হিসেবে বিল পাঠাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ করোনা নিয়ে রাজনীতি করব, দম থাকলে আমাদের আটকান, মমতা কে চ্যালেঞ্জ দিলীপের।


কথা অনুযায়ী এই বিলেই গড় বিল হিসেবে দেওয়া টাকা আসল বিলের সাথে হিসেব করে ভজিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তিনমাসে মোট গড় বিল যা দেওয়া হয়েছে, তারথেকে অনেক অনেক কম অংক অ্যাডযাস্ট করা হয়েছে।কোথাও কোথাও কোন অ্যাডযাস্ট করাই হয়নি। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে জুনে যে বিলটা দিচ্ছে সেটা আপনার চারমাসের আসল ও মোট বিল।আর আগের তিনমাসে দেওয়া গড় বিলটা কোন হিসেবে আসছে না। একি জিনিস হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে যারা লকডাউনে রিডিং নেওয়া হচ্ছেনা জেনে কোন গড় বিল দেননি । তাদের তিনমাসে বাকিথাকা গড় বিলের সাথে চারমাসের আসল যোগ করে বিল আসছে। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই তিনমাসের প্রায় ডবল বিল দিতে হচ্ছে।আমাদেরই একটি খালি বাড়ির মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত লকডাউনে মোট ১৯০০ গড় বিল এসেছিল, দিইনি।
কারন CESC অফিসে ফোন করে খালি বাড়ির কথা জানাতেই বলেছিল এই সময়ে বিল দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আগের কোন বিল বকেয়াও ছিলোনা।এখন দেখছি চারমাসের মোট খরচকৃত ১০ ইউনিটের ২০৩০ টাকা বিল এসেছে।
আবার চারমাসের বিল একসাথে হিসেবের ফলে প্রত্যেক সাধারন গ্ৰাহকের কমবেশি ৩০০-১০০০ টাকা বিল বেশি হয়েছে। এবার ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলা যাক।
অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল পাঠিয়ে কিভাবে ঠকাচ্ছে CESC? ধরুন আপনার চারমাসের মোট বিদ্যুৎ খরচ এসেছে ৩৬৮ ইউনিট। এরজন্য আপনাকেই CESC নিয়ম অনুয়ায়ী ৩৬৮ ইউনিটের বিদ্যুৎ শুল্ক ৩৫২৩.৭১ টাকা (প্রথম ২৫ ইউনিট× ৪.৮৯ + পরবর্তী ৩৫ ইউনিট× ৫.৪০ + পরবর্তী ৪০ ইউনিট × ৬.৪১+ পরবর্তী ৫০ ইউনিট × ৭.১৬ + পরবর্তী ৫০ ইউনিট × ৭.৩৩ + পরবর্তী ১০০ ইউনিট× ৭.৪৪ + পরবর্তী ৬৮ ইউনিট × ৮.৯২=৩৫২৩.৭১) দিতে হবে। কিন্তু এই ৩৬৮ ইউনিটটাই যদি চারমাসে অল্প অল্প করে আসত,তাহলে আপনাকে সর্বাধিক হয়ত ৬.৪১ কিংবা ৭.১৬ ইউনিট মূল্যটাই দিতে হত। অর্থাৎ প্রায় ২০০-৩০০ ইউনিট ১-৩ টাকা করে সস্তা পারত। এটি লকডাউনের অজুহাতে হিসেবের মার প্যাচকে কাজে লাগিয়ে সুচতুর ভাবে সাধারনের টাকা হাতানোর পরিকল্পনা ছাড়া অন্য কিছু নয়।


সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



