অন্যান্য দেশের সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু কেন্দ্রের।

অন্যান্য দেশের সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু কেন্দ্রের।
অন্যান্য দেশের সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু কেন্দ্রের।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ অন্যান্য দেশের সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু কেন্দ্রের। দীর্ঘ বিতর্কের পর অবশেষে দেশে চালু হতে চলেছে সিটিজেনশিপ অ্যামেডমেণ্ড অ্যাক্ট (CAA)। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতো মুসলিম অধ্যুষিত দেশ থেকে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়-যেমন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও জৈন সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে শুক্রবার নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। একই সঙ্গে মুসলমান ছাড়া অন্য সবাই যাতে অবিলম্বে আবেদন করেন, সেই আমন্ত্রণবার্তাও দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুনঃ আলাপনকে নিয়ে দড়ি টানাটানি কেন্দ্র-রাজ্যের, মমতা কি ছাড়বেন মুখ্যসচিবকে?

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ এবং ২০০৯ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (CAA) অধীনে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ২০১৯ সালে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী নয়। নয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সিএএ ২০১৯-এর মাধ্যমে ভারতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, শিখ ও পার্সিদের সহজেই নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া করা শুরু করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ২০১৯ বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত করবে, ফলে অনাগরিক অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। প্রসঙ্গত ২০১৯ সালে প্রথম নিয়ে আসা হয় CAA। যা নিয়ে দেশে চরম বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজধানী দিল্লী সহ অনেক জায়গায় দাঙ্গাও বেঁধে যায়।

এই নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অনিল মালিকের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, “নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯, ধারা ১, উপধারা ২ মেনে ১০, জানুয়ারি ২০২০ থেকে আইন কার্যকর করা হল।”  পরবর্তীকালে করোনা আসায় ও বিভিন্ন রাজ্যে ভোট থাকায় এই নিয়ে কিছুটা ধীরে চলার নীতি নেয় বিজেপি। তাই ভোট মিটতেই ময়দানে নেমে পড়ল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এদিকে নাগরিকপঞ্জি আর সিএএ নিয়ে অনেকদিন ধরেই সরব বুদ্ধিজীবী মহল। ধর্মের ভিত্তিতে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে তুমুল প্রতিবাদ হয়েছে দেশজুড়ে। পাল্টা বিজেপি বলেছে, মুসলিম দেশগুলিতে অত্যাচারিত হিন্দু, শিখ ও অন্য সংখ্যালঘুদের বাঁচাতেই এই আইন আনা হয়েছে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের আওতায় তাঁদের দেশের নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

অন্যান্য দেশের সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু কেন্দ্রের। এদিকে পাঁচ রাজ্যের ১৩ জেলায় আপাতত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) স্থগিত রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার। গুজরাত, ছত্তীসগড়, রাজস্থান, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবের ১৩টি জেলায় নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনপত্র-সহ অন্যান্য কাগজপত্র যাচাইকরণের জন্য সময় লাগবে। বাকি সব জায়গায় দ্রুত এই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here