নজরবন্দি ব্যুরোঃ আলাপনকে নিয়ে দড়ি টানাটানি কেন্দ্র-রাজ্যের, মমতা কি ছাড়বেন মুখ্যসচিবকে? রাজ্যে তৃতীয়বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসার পরে কিছুদিন আগেই মুখ্যসচিব হিসেবে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদ বাড়িয়েছিল রাজ্য। কিন্তু এরই মধ্যে গতকাল কেন্দ্রীয় সরকার বদলির নির্দেশ দেয় আলাপনকে। এবার রাজ্য নয় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হবে তাঁকে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টায় করোনার গ্রাসে ১৪৫, কিছুটা স্বস্তি দিয়ে এক ধাক্কায় সংক্রমণ কমল রাজ্যে।


আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় কে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে আগামী ৩১ তারিখ সোমবার, সকাল ১০টায় তাঁকে দিল্লিতে কর্মিবৃন্দ ও প্রশিক্ষণ মন্ত্রকে হাজিরা দিতে হবে। রাজ্যকে বলা হয়েছে, ক্যাবিনেট কমিটির বৈঠকে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রের কাজে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁকে যেন রাজ্য সরকার মুখ্যসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত আগামী ৩১ মে ছিল মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যকালের মেয়াদের শেষ দিন। কিন্তু রাজ্যের তরফে আগেই কেন্দ্রের কাছে তাঁকে এই পদে বহাল রাখার আর্জি জানানো হয়। রাজ্যের সেই দাবি মেনে মুখ্যসচিব পদে তাঁর মেয়াদ তিন মাসের জন্য বাড়িয়েও দেয় কেন্দ্র। এই আমলার কাজের প্রশংসাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবারই ইয়াস পরবর্তী প্রশাসনিক বৈঠকে দিঘা উন্নয়ন পর্ষদের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে।
এরই মধ্যে কেন্দ্রের এই জরুরি তলব। এখন প্রশ্ন হল কেন্দ্রীয় সরকারের আর্জি মেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যসচিবকে সোমবার নয়াদিল্লির নর্থ ব্লকে গিয়ে কাজে যোগ দেওয়ার ছাড়পত্র দেবেন? শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আলাপনের কাছে চিঠি আসার পর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ওই বিষয়ে উচ্চবাচ্য করেননি মমতা। প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি আলাপনও। ঘটনাচক্রে, যিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিঘা সফরে রয়েছেন। শনিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিব— দু’জনেরই কলকাতায় ফেরার কথা। এখন দেখার, কলকাতায় ফিরে বা দিঘা থেকে কলকাতায় রওনা হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী ওই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেন কি না।
তবে মনে করা হচ্ছে নবান্নের আলাপনকে দিল্লিতে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, এর আগেও রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসারকে ডেকে পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তখন কিন্তু তাঁদের ছাড়পত্র দেয়নি রাজ্য সরকার। তাঁরা এখনও রাজ্যেই রয়েছেন। একই ঘটনা ঘটতে চলেছে আলাপনের ক্ষেত্রেও বলেই মনে করছে প্রশাসনের অন্দরমহল। প্রশ্ন উঠছে সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা কী হবে? আইনগত ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের এই তলবে কোনও বাধা নেই বলে আইন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। আইনজীবী তথা সিপিএমের রাজ্যসভা সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের অভিমতও তেমনই।


আলাপনকে নিয়ে দড়ি টানাটানি কেন্দ্র-রাজ্যের, মমতা কি ছাড়বেন মুখ্যসচিবকে? প্রশাসনিক মহলেরও বক্তব্য, কোনও অফিসারকে তলব করতে গেলে রাজ্য আপত্তি জানাতেই পারে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছাই বলবত্ থাকবে। তবে যে যাই বলুক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তিনি এই ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত দেন সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।







