নজরবন্দি ব্যুরোঃ গরু পাচার মামলায় এই মুহুর্তে জেলবন্দী রয়েছেন বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেইমতো আসানসোলের বিশেষ আদালতে পেশ করে সিবিআই। সেই মামলায় অনুব্রতর কেস ডায়েরি দেখে চমকে গেলেন বিচারক রাজেশ চক্রবর্তী।


এদিন আদালতের কাছে অনুব্রত মণ্ডলকে পুনরায় অনুব্রতকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়। সেখানেই অনুব্রত মণ্ডলের কেস ডায়েরি জমা করে তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বিচারক বলে ওঠেন, ২০ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছি। কিন্তু এমন জিনিস কখনও দেখিনি।
সিবিআই সূত্রে খবর, বড় চক্রান্তের সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের যোগসাজশের হদিশ মিলেছে। কেস ডায়েরিতে সেই বিষয়েই উল্লেখ রয়েছে। মামলার শুনানি শেষে অনুব্রতকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। কিন্তু কী কারণে বিচারক ভরা এজলাসে এই মন্তব্য করলেন? তা এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। আগামী ২২ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।

ইতিমধ্যেই গরুপাচার মামলায় তদন্তে নেমে একাধিক তথ্য হাতে পেয়েছেন ইডি। ইডির এই মুহুর্তে বীরভূমজুড়ে একাধিক জায়গায় সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে। এমনকি অনুব্রত মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে তদন্ত করেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। ইডির সন্দেহ গরু পচারের বিপুল টাকা দিয়ে সম্পত্তি কিনেছেন অনুব্রত।


সূত্রের খবর, গরু পাচারের টাকা দিয়ে অনুব্রত মণ্ডল ঝাড়খণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশে ফ্ল্যাট ও জমি কিনেছিল। ইডির আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তদন্ত করতে নেমে তাঁরা জানতে পেরেছে ঝাড়খণ্ড ও বিহারে হাওয়ালার মাধ্যমে পাথরখাদানে টাকা বিনিয়োগ করেছেন তৃণমূল নেতা।
অনুব্রতর কেস ডায়েরি দেখে চমকে গেলেন বিচারক, বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন

উল্লেখ্য, এই মুহুর্তে আসানসোল আদালতে রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। গত মাসেই তাঁকে আসানসোল আদালতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ইডির অফিসাররা। তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজই জেলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে অনুব্রত মণ্ডল। এই মুহুর্র্তে দুই রাজ্যের শীর্ষ আদালতে আটকে রয়েছে অনুব্রত মামলার শুনানি। ফলত, আজ অনুব্রত মণ্ডলের জামিন নিয়ে ফের টানাপোড়েন শুরু হতে পারে।







