নজরবন্দি ব্যুরোঃ ঘড়ির কাঁটার মতই ৮৫ কিমি বেগে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আবহাওয়া দফতরের তরফে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে এই তিন রাজ্যে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় মান্দোস। ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড় ক্রমশ শক্তি বাড়িয়েই চলেছে। এই ঘূর্ণিঝড় বৃহস্পতিবার বঙ্গোপসাগরের উপরের তৈরি করেছিল গভীর নিম্নচাপের। এর প্রভাবে বৃষ্টি বাড়বে দক্ষিণ ভারতে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় নামলো উষ্ণতার পারদ, আগামীদিনে আরও জাঁকিয়ে পড়বে ঠাণ্ডা
শুক্রবার মধ্যরাত ও শনিবার ভোররাতের মধ্যে পুদুচেরি ও শ্রীহরিকোটার মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করে মহাবলিপুরমের কাছে আছড়ে পড়বে মন্দৌস। ঝড়ের বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিমি। সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৮৫ কিমি। তবে স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আগেই শক্তিক্ষয় হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের। বৃহস্পতিবার অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছিল মন্দৌস। শুক্রবার শক্তি হারিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও দক্ষিণ অন্ধ্র উপকূলে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। ইতিমধ্যে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টিও। তৎপর থাকতে বলা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, করাইকাল, অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর একাধিক এলাকায় স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বৃষ্টির জেরে পুদুচেরিতেও শুক্র ও শনিবার স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুদুচেরি সরকার। শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তাল সমুদ্র। চেন্নাইয়ে মেরিনা বিচ এলাকাতেও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলায় তামিলনাড়ুর ১০টি জেলায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর মোট ১২টি দলকে মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্দৌসের প্রভাব পড়তে পারে বেঙ্গালুরুতেও। সেখানে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে হাওয়া অফিস। কর্নাটকের উপকূলবর্তী এলাকায় ১১ ও ১২ তারিখ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর অন্ধ্র সরকারও। সে রাজ্যে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। একাধিক জেলায় মন্দৌস নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। নেল্লোর, তিরুপতি, চিত্তোর জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মন্দৌসের নাম রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আরবি ভাষায় ‘মন্দৌস’ শব্দের অর্থ গয়না কিংবা অর্থ রাখার বাক্স। মাঝরাতে স্থলভাগে এলে ঘূর্ণিঝড় কী তাণ্ডব চালায়, সে নিয়েই আতঙ্কে তিন রাজ্যের বাসিন্দারা।
ঘড়ির কাঁটার মতই ৮৫ কিমি বেগে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, Cyclone Mandous আতঙ্কে কাঁপছে তিন রাজ্য

এদিকে রাজ্যে ফের নামলো পারদ। বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার বেশ অনেকটাই কমলো রাজ্যের তাপমাত্রা। আজ সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল। পাশাপাশি সারা দিন ধরে শহরের আকাশ আংশিক ভাবে মেঘে ঢাকা থাকবে বলে আলিপুর হাওয়া অফিস সূত্রে খবর। আজ সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজকের আবহাওয়া সকাল থেকে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে। কিন্তু রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বেলা গড়ালে মেঘ সরবে না, এবং তারসঙ্গে উত্তর-পশ্চিমের শীতল হাওয়া বইবে। এই কারণে দিনের তাপমাত্রা আজ কমতে পারে।



