লোকসভা নির্বাচনের আগে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। দেশ জুড়ে লাগু হল সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন। একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আর এই সিদ্ধান্তের পর কার্যত উৎসবের ছবি উত্তর ২৪ পরগণার ঠাকুরনগরে। মতুয়ারা আনন্দে মেতেছেন। আবার অন্যদিকে, বিরোধীদের তরফ থেকে তীব্র বিরোধিতা জানানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মানুষের অধিকার কেড়ে নিলে রুখে দাঁড়াব, CAA প্রসঙ্গে হুঙ্কার মমতার


প্রথমে জানা যাচ্ছিল, সোমবার রাত ১০টা নাগাদ সিএএ (CAA) সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যদিও তার অনেক আগেই জারি হয়ে গেল বিজ্ঞপ্তি। আগামীকাল থেকেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানানো যাবে। রয়েছে আরও কিছু প্রক্রিয়া, তা ধীরে ধীরে প্রকাশিত হবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, লোকসভা নির্বাচনের আগেই চালু হবে সিএএ। আর তাই হল। একেবারে ভোটের মুখে কার্যকর হল সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন।

২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য দেশের ক্ষমতায় এসেই সিএএ (CAA) কার্যকর করার কথা ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। সংসদে পাশ হয় বিলও। কিন্তু মাঝে এতগুলো বছর কেটে গেলেও সেই বিলকে আইনে কার্যকর করতে পারেনি কেন্দ্র সরকার। যার মূল কারণ, বিরোধীতা। দেশের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী প্রত্যেকেই সমালোচনা করেন এই বিলের। পথে নেমে প্রতিবাদ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।



সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) কী বলে? বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী দেশ থেকে যদি সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় নিতে চান তা হলে তা দেবে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু এখানেই গন্ডগোল! মুসলিম অধ্যুষিত দেশের সংখ্যালঘু অর্থাৎ, হিন্দু, খ্রিস্টান বা অন্যান্য সম্প্রদায়। তার মধ্যে অবশ্যই মুসলিমরা পড়ছেন না! তাহলে যদি কোনও মুসলিমই সে দেশে যে কোনও রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়ে ভারতে আসতে চায় তিনি কি নাগরিকত্ব পাবেন না? প্রশ্নটা এখানেই। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। কারণ, তিনি সে দেশের সংখ্যালঘু নন।
লোকসভার মুখে দেশজুড়ে চালু CAA, ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের

এর আগেও সিএএ (CAA) প্রসঙ্গে ‘ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ’ ছড়া বাধেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সোমবার নাগরিকত্ব আইনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ প্রসঙ্গে বললেন, “ভোটের আগেই এক একটা ভাওতা করে কেন্দ্রের এই সরকার। আমি খবর পেয়েছি আজ সিএএ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি বার করবে। আমি আগে সেই কাগজ পড়ব তারপর মন্তব্য করব। তবে, এটুকু বলতে পারি, মানুষের অধিকার যদি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয় তাহলে রুখে দাঁড়াব। এ রাজ্যে সিএএ বা এনআরসি চালু করতে দেব না।”







