লোকসভা নির্বাচনের (Loksabha Elelction 2024) আগেই চালু হয়ে যেতে পারে নয়া নাগরিকত্ব আইন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আজ অর্থাৎ, সোমবারই সিএএ (CAA) সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আর তারপরেই চালু হয়ে যাবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন। ফের একবার সিএএ-এর বিরোধিতা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: লোকসভার আগে চালু CAA? সোমেই বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে কেন্দ্র!


এর আগেও সিএএ (CAA) প্রসঙ্গে ‘ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ’ ছড়া বাধেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সোমবার নাগরিকত্ব আইনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ প্রসঙ্গে বললেন, “ভোটের আগেই এক একটা ভাওতা করে কেন্দ্রের এই সরকার। আমি খবর পেয়েছি আজ সিএএ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি বার করবে। আমি আগে সেই কাগজ পড়ব তারপর মন্তব্য করব। তবে, এটুকু বলতে পারি, মানুষের অধিকার যদি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয় তাহলে রুখে দাঁড়াব। এ রাজ্যে সিএএ বা এনআরসি চালু করতে দেব না।”

২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য দেশের ক্ষমতায় এসেই সিএএ (CAA) কার্যকর করার কথা ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। সংসদে পাশ হয় বিলও। কিন্তু মাঝে এতগুলো বছর কেটে গেলেও সেই বিলকে আইনে কার্যকর করতে পারেনি কেন্দ্র সরকার। যার মূল কারণ, বিরোধীতা। দেশের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী প্রত্যেকেই সমালোচনা করেন এই বিলের। পথে নেমে প্রতিবাদ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।



সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) কী বলে? বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী দেশ থেকে যদি সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় নিতে চান তা হলে তা দেবে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু এখানেই গন্ডগোল! মুসলিম অধ্যুষিত দেশের সংখ্যালঘু অর্থাৎ, হিন্দু, খ্রিস্টান বা অন্যান্য সম্প্রদায়। তার মধ্যে অবশ্যই মুসলিমরা পড়ছেন না! তাহলে যদি কোনও মুসলিমই সে দেশে যে কোনও রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়ে ভারতে আসতে চায় তিনি কি নাগরিকত্ব পাবেন না?
মানুষের অধিকার কেড়ে নিলে রুখে দাঁড়াব, CAA প্রসঙ্গে হুঙ্কার মমতার
প্রশ্নটা এখানেই। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। কারণ, তিনি সে দেশের সংখ্যালঘু নন। যে কারণে এই আইনকে স্বতঃপ্রণোদিত একতরফা আইন বলে কটাক্ষ করেন বিরোধীরা। দিল্লিতে গ্লোবাল বিজনেস সামিটে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সাফ বললেন, ‘‘লোকসভা ভোটের আগেই সিএএ (CAA) কার্যকরের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।’’

অমিত শাহ আরও বলেন, “কংগ্রেস শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল একসময়। তাঁরা তা কার্যকরও করেনি আর এখন অন্য কথা বলছে। সিএএ মানে মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া নয়। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে একথা একবারও বলা হয়নি। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আসা নিপীড়িত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতেই এই আইন।”







