নজরবন্দদি ব্লযুরোঃ সোনার বাংলা গড়ছেন যাঁরা, বদল চলছে পাল্লা দিয়ে। কিন্তু মানুষের মনে প্রশ্ন একটাই মানুষ বিশ্বাস করবে কাকে? দল আর প্রতীক শেষ কথা হতে পারেনা কখনোই। দলের থেকেও বেশি বাংলা এখন খুঁজছে সেইসব মানুষদের জান্দের বিস্বস করা যাবে। যাঁদের মধ্যে খুঁজে পাবে নিজেদের বিশ্বাস কে। বাংলা জুড়ে সামনেই একুশের ভোট। রোজকার দলবদলে জমে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতি। আসন্ন এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে বিজেপির। জানুয়ারি মাসের দু’তারিখ থেকে পুরো মাস রাজ্যজুড়ে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য বিশেষ কর্মসূচি রূপায়ণ করতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি।
আরও পড়ুনঃ ফুল,মিষ্টি নিয়ে রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী, মীমাংসা নাকি নয়া বিতর্ক, জল্পনা তুঙ্গে।


সোনার বাংলা গড়ার জন্য বিজেপি তৈরি বলে বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। আর প্রশ্ন উঠছে এই স্বপন দাশগুপ্ত কে নিয়েই। স্বপন দাশগুপ্ত…গেরুয়া শিবিরের এই মুহুর্তের অন্যতম বিখ্যাত ও হেভিওট মুখ। আর তারই পারিবারিক থেকে নিজের একধিক কাজকর্মে মানুষ ভরসা হারাচ্ছেন বিজেপির এই সাংসদের থেকে। তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে রয়েছে এক ন্যক্কারজনক ঘটনার তকমা।
কলেজের সহপাঠিদের যৌন হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্তের ছেলে সৌম্য সৃজন দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, অন্তত পক্ষে ৪জন মহিলাকে সে যৌন হেনস্থা করেছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে। সেইসময় একজন মহিলা দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজের প্রাক্তনীদের দুটি গ্রুপে এই অভিযোগের কথা জানায়। ওই মহিলা জানান, কলেজে পড়ার সময় তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন স্বপন দাশগুপ্তের ছেলে সৌম্য সৃজন দাশগুপ্ত।
স্টিফানিয়ানস এবং লাল সিতারা দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজের প্রাক্তনীদের দুটি গ্রুপে নিজের যৌন উৎপীড়নের কথা জানায় সে। তিনি জানান, তারা যখন কলেজে পড়াশুনা করতেন তখন তাকে শ্লীলতাহানি করেছিল সৃজন। মহিলা ওই গ্রুপ দুটিতে লিখেছেন, “স্বপন দাশগুপ্তের ছেলে সৌম্য দাশগুপ্ত একজন ধারাবাহিক ধর্ষক । আমি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী থাকাকালীনই সে আমার শ্লীলতাহানি করে। তারপর যখন আমি ইনস্টাগ্রামে এই ঘটনার বিষয়ে সবাইকে জানাব ভাবি, তখন দেখি এর আগে অন্তত ৪ জন এইভাবে হেনস্থা হয়েছে। আমি হলাম ৫ নম্বর।”


তিনি আরও লেখেন সৃজনের এমন স্বভাব নাকি শুধু কলেজের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বর্তমানে সে সুপ্রিম কোর্টের উকিল। সেখানেও তার সহকর্মী মহিলা আইনজীবীরা তাঁর নিপীড়নের শিকার। উল্লেখযোগ্যভাবে, দেখা গিয়েছে ওই মহিলার পোস্টটি লাল সিতারা গ্রুপ থেকে মুছে ফেলা হয়। #MeToo টুইটার হ্যান্ডলেও তিনি পোস্টটি শেয়ার করে নিয়েছেন। দ্য কুইন্টের খবর অনুযায়ী সৌম্য দাশগুপ্ত এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। জানা গিয়েছে সৌম্য ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সেন্ট স্টিফেন কলেজের ছাত্র ছিলেন।
ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক অধ্যয়ন করেছিলেন। তিনি এখন সুপ্রিম কোর্টে অনুশীলনকারী আইনজীবী। এছাড়া কথায় আছে, রাজনীতিতে কেউ কারোর নয়। সুযোগ পেলেই একে অপরকে ছোবল মারবে মানুষ। দলীয় কর্মী হয়েও অনেক সময় দলের বিরুদ্ধেই নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। কটাক্ষ করতে ছাড়েননি এল কে আডভানি ও রাজনাথ সিংকেও। লালকৃষ্ণ আডভানি রাজনাথকে রাজনৈতিক ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন। এছাড়া ২০০৯ সালে দলের সংকীর্ণ আদর্শবাদের জেরে ক্ষমতায় আসতে পারেনি বিজেপি বলে কটাক্ষ করেছিলেন রাজ্যসভার এই সাংসদ। এর পাশাপাশি প্রথম স্থানে বিজেপি থাকার মতো যোগ্য দল নয় বলেও দাবি করেছিলেন স্বপন বাবু।
২০২০ সালে নয়া নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে যখন রাজ্যজুড়ে জারি প্রতিবাদ, মিছিল, পাল্টা মিছিল হচ্ছিল সেই আবহে সিএএ-এর সমর্থনে ব্যাখ্যা দিতে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে যান বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। সাংসদের এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিশ্বভারতী চত্বরেই বিক্ষোভ দেখায় এসএফআই। ছাত্র-বিক্ষোভের জেরে শান্তিনিকেতনে প্রায় সাত ঘন্টা আটক থাকেন স্বপন দাশগুপ্ত, বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী-সহ অন্যান্যরা। বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে বিজেপি সাংসদ পা রাখামাত্রই স্লোগানে স্লোগানে বিরোধিতা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।
বিক্ষোভের জেরে প্রেক্ষাগৃহ ঢুকতেই পারেন না সাংসদ। নিজের রাজনৈতিক জীবনে পার্লামেন্টে বহু তর্ক-বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন স্বপন দাশগুপ্ত। বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের হয়ে সাফাই গাইতে দেখা যায় তাঁকে। বিজেপিতে নিজের পদের জন্য তিনি নিজের কাজ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। শুধু তাই নয় অধার বিতর্কের ৫০০০০ কোটি টাকার বিষয়ে তিনি হটাৎ নিজের মতামত বদলে ফেলেন। প্রথমে তিনি এই পরিমাণ টাকার ব্যাবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পরে নিজেরই স্বার্থের জন্য নিজের কথা বদলে ফেলেন অনায়াসে । তিনি ২০১৪ তে মোদীর জয়লাভ প্রসঙ্গেও মন্তব্য প্রকাশ করেন। যিনি নিজেই একটা সময় বিজেপির বিরুদ্ধে, তিনিই আজ আবার বিজেপির হয়ে সাফাই গাইছেন। আর এসব কিছুর টালবাহানা দেখে বাংলার মানুষ কার্যত হতবাক। বিশ্বাস করবেন কাকে? যাঁরা নিজেরাই নিজেদের স্বার্থে বারবার মিথ্যে সাফাই দেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থে কতটুকুই বা করবেন তাঁরা?







