কেরল ও গোটা দক্ষিণ ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির জন্য কঠিন রাজনৈতিক মাটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বাম ও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ভাঙা সেখানে সহজ কাজ নয়। সেই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বড় সাফল্য পেল Bharatiya Janata Party। চার দশক পর বামেদের হাত থেকে তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগম ছিনিয়ে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল গেরুয়া শিবির।
তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক ভি ভি রাজেশ। ১০১ সদস্যের পুরসভায় বিজেপি কাউন্সিলর ও নির্দলদের সমর্থন মিলিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেরলের নগর রাজনীতিতে এটি একটি মাইলফলক।


ভোটের অঙ্কে স্পষ্ট ব্যবধান ধরা পড়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ প্রার্থী কে এস সবরিনাথন পেয়েছেন মাত্র ১৭টি ভোট। অন্যদিকে বামফ্রন্ট এলডিএফ-এর প্রার্থী আর পি শিবাজি পেয়েছেন ২৯টি ভোট। ইউডিএফের সমর্থনে পড়া দুটি ভোট বাতিল হওয়ায় ফল আরও একতরফা হয়ে ওঠে।
এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিল বিজেপি। জয়ের লক্ষ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি মাঠে নামেন। রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি মুরলিধরন মেয়র নির্বাচনের সময় পুরনিগমে উপস্থিত ছিলেন। ফল ঘোষণার পরই মেয়র হিসেবে শপথ নেন ভি ভি রাজেশ।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রায় চার দশক ধরে তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগম বাম গণতান্ত্রিক জোটের দখলে ছিল। সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান বিজেপির কাছে শুধু একটি প্রশাসনিক জয় নয়, বরং কেরলের রাজনীতিতে প্রতীকী সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।


শপথ নেওয়ার পর মেয়র ভি ভি রাজেশ বলেন, “আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চাই। ১০১টি ওয়ার্ডেই সমান উন্নয়ন হবে। তিরুঅনন্তপুরমকে দেশের অন্যতম উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই জয়ের প্রভাব কেরলের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল দক্ষিণ ভারতে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক ভোট রাজনীতিতে এই জয় আগামী দিনে কেরলের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন হিসাব যোগ করতে পারে।







