ভোটের মুখে নদিয়ার কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র যেন বিজেপির অন্দরের দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি। একই আসনে দুই বিজেপি নেতার মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন পরিস্থিতি, যা শুধু স্থানীয় রাজনীতি নয়—রাজ্যজুড়েও প্রশ্ন তুলছে গেরুয়া শিবিরের সাংগঠনিক ঐক্য নিয়ে।
ঘটনার সূত্রপাত ৭ এপ্রিল। সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি-র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তারক চ্যাটার্জী জেলা শাসক দপ্তরে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদনেই তাঁর নাম চূড়ান্ত হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রের দাবি। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দলের একাংশে অসন্তোষ দানা বাঁধে। প্রার্থী বদলের দাবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ, যা দ্রুত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের রূপ নেয়।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন মোড় আসে। প্রবীণ বিজেপি নেতা চঞ্চল বিশ্বাস নিজেকে ‘আসল’ প্রার্থী দাবি করে একই কেন্দ্রে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেন। ফলে একই আসনে দলের দুই নেতার মনোনয়ন জমা পড়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
তারক চ্যাটার্জী অবশ্য বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া—দল যাকে মনোনীত করেছে, তিনি সেই সিদ্ধান্ত মেনেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অন্য কারও পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে অনীহাই দেখিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর এই নীরবতা আরও প্রশ্ন উসকে দিচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
অন্যদিকে চঞ্চল বিশ্বাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূল স্তরের কর্মীদের একাংশ তারককে মেনে নিতে পারেননি। কর্মীদের ইচ্ছা এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ সমর্থনের ভিত্তিতেই তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
পুরো ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট, এই দ্বন্দ্ব শুধুমাত্র প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে নয়—দলের ভিতরে প্রভাব, গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতৃত্বের প্রশ্নও এখানে বড় ভূমিকা নিচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ঘটনা বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
নদিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এমন প্রকাশ্য কোন্দল ভোটের অঙ্কে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। একই আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন—এই বিরল পরিস্থিতি যে নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, তা বলাই যায়।



