ত্রিপুরায় তৃণমূলের দরজায় কড়া নাড়া বিধায়কদের সাথে বৈঠক বিজেপি শীর্ষ নেতার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ত্রিপুরায় তৃণমূলের দরজায় কড়া নাড়া বিধায়কদের সামলাতে আসরে নামল বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ২০১৮ নির্বাচনে মুকুল ম্যাজিকে ভর করে সুদীপ রায় বর্মনের ক্যারিশমায় দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটে ত্রিপুরায়। পতন হয় মানিক ‘সরকারের’। ১ শতাংশ অর্থাৎ বিজেপির(এনডিএ) থেকে সার্বিক ভাবে মাত্র ৩৩ হাজার ভোট কম পেয়ে পরাজিত হয় বামফ্রন্ট। সুদীপ রায়বর্মনের নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ে ত্রিপুরা। কিন্তু আচমকাই পট পরিবর্তন। মুকুল অনুগামী সুদীপ রায়বর্মন কে মুখ্যমন্ত্রী না করে বিপ্লব দেব কে ত্রিপুরার মসনদে বসায় বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী দূরের কথা সুদীপ রায়বর্মনকে সাধারণ মন্ত্রীত্বেও রাখা হয়নি বেশিদিন।

আরও পড়ুনঃ সঙ্কটে বিরোধী দলনেতার বিধায়ক পদ, শুভেন্দু-র বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা মমতার।

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব কার্যত কোনঠাসা করে রেখেছেন তাকে। মানিক সরকার বিরোধী দলনেতা হলেও দলে(বিজেপি) থেকে বিপ্লবের সব থেকে বিরোধী মুখ সুদীপই। এখন মুকুল ফিরে এসেছেন তৃণমূলে। আর সাথে সাথেই ত্রিপুরায় ভাঙতে শুরু করেছে বিজেপি। অবস্থা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে বিজেপি। কিছুদিন আগে থেকেই বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন বেশ কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক। কিন্তু তাতে কর্নপাত করেননি তৎকালীন সভাপতি অমিত শাহ। আর এখন এমন অবস্থা যে সরকার বাঁচানোই দায়।

বিজেপি সূত্রে খবর বিপ্লব দেব কে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাতে মন গলেনি বিধায়কদের। প্রায় ১৫ জন বিজেপি এবং জোটসঙ্গী আইপিএফটি বিধায়ক বিপ্লবের সরকার থেকে সমর্থন তুলে নিয়ে যোগ দিতে পারেন তৃণমূলে বলে খবর। এই খবর পেয়েই নড়ে চড়ে বসে বিজেপি। বিজেপির পক্ষ থেকে বিএল সন্তোষের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছিল ত্রিপুরায়। তাঁরা সমস্ত বিজেপি বিধায়ক এবং আইপিএফটি বিধায়কদের সাথে বৈঠক করেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁদের এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মুখোমুখি সুদীপ রায় বর্মণ এবং বিপ্লব দেব কে বসিয়ে বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ।

ত্রিপুরায় তৃণমূলের দরজায় কড়া নাড়া বিধায়কদের সামলাতে আসরে নামল বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সূত্রের খবর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনেই ক্ষোভ উগরে দেন সুদীপ পন্থী বিধায়করা। যদিও ত্রিপুরার বিজেপি মুখপাত্র নব্যেন্দু ভট্টাচার্য অন্যকথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “রুটিন বৈঠক। দলীয় সংগঠনকে আরও মজবুত করার বিষয়ে এদিন আলোচনা হয়। দল চায়, অতিমারী পরিস্থিতিতে দলীয় নেতা-কর্মী, জন প্রতিনিধিরা যেন আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এ সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছে দল।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত