নজরবন্দি ব্যুরোঃ সঙ্কটে বিরোধী দলনেতার বিধায়ক পদ, শুভেন্দু অধিকারীর-র বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিয়ে এই মামলা হয়েছে। হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে আগামিকালই এই শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টার ডেডলাইন পেরিয়ে ৭২ ঘন্টা শেষ, বিধানসভার মুকুল ঝরাতে মরিয়া শুভেন্দু!


মমতা জয়ী ঘোষণার পরেও নন্দীগ্রাম পুনর্গণনায় এগিয়ে যান শুভেন্দু। ২রা মে সকালবেলা গননা শুরুর পর থেকেই সাপলুডোর খেলা চলে সবথেকে হাইভোল্টেজ আসন নন্দীগ্রামে। একবার শুভেন্দু এগিয়ে যাচ্ছেন তো একবার তৃনমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনার দিন বিকেল ৫ টা নাগাত ১৭ রাউন্ড গণনার পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে অবশেষে জিতলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীকে হারিয়েছেন ১২০০ ভোটে।
তারপর ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের মহানাটকীয় পরিবর্তন। শুভেন্দুর ফের গণনার দাবি মেনে গণনা করা হলে দেখা যায় ১৯২২ ভোটে এগিয়ে শুভেন্দু। কিছুক্ষণ পরই শুভেন্দু অধিকারীকে জয়ী ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার। গোটা বিষয়টি নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তোলে তৃণমূল। আর এবার তা নিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সঙ্কটে বিরোধী দলনেতার বিধায়ক পদ, কারণ মুখ্যমন্ত্রীর করা মামলায় যদি পরাজিত হন শুভেন্দু সেক্ষেত্রে বিধায়ক পদ হারাতে হতে পারে। সবাই ভেবেছিল নন্দীগ্রামের মহা সংগ্রাম শেষ হয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর করা মামলা বুঝিয়ে দিল এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তিনি। শুক্রবার সকাল ১১ টায় বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে মামলাটি উঠবে। ভিডিও কনফারেন্সে হবে শুনানি।


কিন্তু ঠিক কোন যুক্তিতে এই মামলা? তৃণমূলের পয়েন্ট, ১) গণনার সময় কেন্দ্রে আচমকাই দুঘণ্টার জন্য সার্ভার চলে গিয়েছিল। যার ফলে ফলাফল আপডেট হচ্ছিল না। ২) প্রথমে ১২০০ ভোটে জয়ী ঘোষণার পরও নতুন করে গণনায় শুভেন্দুকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। কেন? ৩) পোস্টাল ব্যালটের ভোট যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটিও না পান সেক্ষেত্রেও তাঁর ৮০০ ভোটে জয়ী হওয়ার কথা। কারণ নন্দীগ্রামে পোস্টাল ব্যালট ছিল মাত্র ৪০০ টি!! ৪) প্রথমে মমতা এবং পরে শুভেন্দুকে জয়ী ঘোষণা করার পর রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরী হয়। আবার গণনার দাবি জানায় তৃণমূল। কিন্তু সেই আবেদনে কর্ণপাত করেনি কমিশন।







