নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিধানসভা ভোটে বিজেপি এবং নিজের ভরাডুবি হওয়ার পর থেকেই তিনি তৃণমূলে ‘ঘর ওয়াপসি’র আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে কুণাল ঘোষের শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে সাক্ষাৎ। মমতার মনজয়ে চেষ্টার খামতি রাখেননি বিজেপি নেতা। তৃণমূলে ফিরে জনসেবার প্রহর গুনছেন তিনি। কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। তৃণমূলে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়া নিয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন হাওড়ার নেতারা।
আরও পড়ুনঃ জলমগ্ন একবালপুর, হাঁটুজলে আটকে গেল প্রার্থী মমতার প্রচার


এদিকে হেস্টিংস বিজেপি পার্টি অফিস থেকে ‘গৃহহীন’ করা হয়েছে রাজীব কে। তাঁর ঘরের দুয়ারে জ্বলজ্বল করছে প্রিয়াঙ্কা টিব্রিওয়ালের নাম। মমতার বিপরীতে তাবড় তাবড় নেতাদের নাম পাশ কাটিয়ে গেরুয়া শিবির দাঁড় করিয়েছে প্রিয়াঙ্কাকে। প্রচার থেকে শুরু করে মনোনয়ন জমা সর্বত্র হাজির হচ্ছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা। ভবানীপুর জিততে মরিয়া গেরুয়া শিবির ‘২১ এর ভোটের মতোই হেস্টিংসে তৈরি করছে ওয়ার রুম। শুধু বাদ পড়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর অবস্থা কার্যত ‘না ঘর কা না ঘাট কা’, তাই হাল ছাড়ছেন না তিনি, বরং তৃণমূলে ফিরে জনসেবার প্রহর গুনছেন রাজীব। বিজেপি থেকে পদত্যাগ না করলেও মমতা বন্দনার পাশাপাশি একদা সতীর্থ শুভেন্দু অধিকারীর মুণ্ডপাত করতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ঠিক যেমনটা ঘটল আজ। উপদেশের সুরে তাঁর মন্তব্য, মমতাকে ‘খালা’, ‘বেগম’ বলা শোভনীয় নয়, ভবানীপুরে প্রার্থী না দিলে ভালো করত বিজেপি!
রাজীবের কথায়, ‘ভোটের প্রচারে বিভেদের রাজনীতি, ধর্মীয় বিভাজনকে ইস্যু হিসেবে তুলে ধরাকে ভালভাবে নেয়নি বাংলার মানুষ। যাঁকে দেখে বাংলার মানুষ ২১৩টি আসন দিয়েছে, তাঁকে বেগম, খালা বলা শোভনীয় নয়।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে তাঁর বক্তব্য, উপনির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হবেন দিদি, দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে তাঁর।


তৃণমূলে ফিরে জনসেবার প্রহর গুনছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়

উল্লেখ্য, ‘২১ এর নির্বাচনের আগে আগেই মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ে গেরুয়া শিবিরে গিয়েছিলেন রাজীব। হেস্টিংসের ৯ তলার ৮১১ নম্বর ঘরেই বসতেন হাওড়ার নেতা। নিজের এলাকাতেই ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপির টিকিটে। তবে জয় আসেনি। আর তার পর থেকেই ফের পুরানো ঘরে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। বেশ কয়েকবার জল্পনা ও উঠেছিল রাজীবের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে। সেই জ্বল্পনা রয়ে গিয়েছে কল্পনাতেই।







