ডার্বির আগে মাঠে উত্তেজনা তুঙ্গে, আর মাঠের বাইরেও বাড়ছে অনিশ্চয়তা। ১৭ মে মোহনবাগানকে হারালেই প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি ইস্টবেঙ্গলের সামনে। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের পরেও কি লাল-হলুদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছে ইনভেস্টর ইমামি গ্রুপ? ময়দানে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্নই। সূত্রের খবর, নতুন মরশুমে ইমামিকে আর ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে দেখা নাও যেতে পারে।
যদিও বুধবার ইমামি কর্ণধার আদিত্য আগরওয়াল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর কথায়, “এখনও আমরা এ সব নিয়ে কিছু ভাবিনি। এখনও পর্যন্ত আমরাই তো আছি।” তবে ময়দানের অন্দরমহলের খবর বলছে, পরিস্থিতি অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইস্টবেঙ্গল শিবিরের একাংশের দাবি, গত কয়েক বছরে দল পরিচালনায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি খরচ করতে হয়েছে ইমামিকে। ফুটবল টিম পরিচালনা তাদের মূল ব্যবসা নয়, ফলে প্রতি মরশুমে এত বড় আর্থিক দায় বহন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। সূত্রের খবর, গত বছরই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর কাছে এই আর্থিক চাপের বিষয়টি জানিয়েছিলেন ইমামি কর্তারা।
শুধু আর্থিক চাপ নয়, ভারতীয় ফুটবলের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎও চিন্তা বাড়াচ্ছে। আইএসএলের আগামী মরশুম নিয়ে এখনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। প্রকাশ হয়নি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল ক্যালেন্ডারও। এই অনিশ্চয়তার আবহে আগ্রহ হারাচ্ছে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলি। এমনকি ফুটবলারদেরও বিকল্প ভাবতে বলা হয়েছে বলে খবর।
এর মধ্যেই কোচ অস্কার ব্রুজ়ো জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আগামী মরশুমে আর থাকবেন না। ফলে নতুন করে দল গঠন, কোচিং স্টাফ তৈরি এবং পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে। আর সেই কারণেই ইমামি আপাতত পিছিয়ে আসার কথা ভাবছে বলেই জল্পনা।
তবে প্রশ্ন উঠছে, ইমামি সরে গেলে ইস্টবেঙ্গলের ভবিষ্যৎ কী? অতীতে আর্থিক সঙ্কটের সময়ে রাজনৈতিক মহলের সাহায্যেই নতুন ইনভেস্টর পেয়েছিল ক্লাব। এবার বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বদলে গিয়েছে। তাই নতুন সরকারের উপরেও ভরসা রাখছে ক্লাবকর্তারা। পাশাপাশি নিজেদের উদ্যোগেও নতুন স্পনসর বা ইনভেস্টরের খোঁজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে ফুটবল মানেই অনিশ্চয়তার খেলা। ১৭ মে যদি ডার্বিতে জয় আসে এবং প্রথমবার আইএসএল ট্রফি ওঠে লাল-হলুদের হাতে, তা হলে আবেগে অনেক সমীকরণই বদলে যেতে পারে। সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ।



