দিল্লিতে ফের চলন্ত বাসে গণধর্ষণের অভিযোগ, ফিরে এল ‘নির্ভয়া’র দুঃসহ স্মৃতি

দিল্লির রানিবাগে চলন্ত প্রাইভেট বাসে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ। গ্রেপ্তার বাসচালক ও কন্ডাক্টর, ফের প্রশ্নের মুখে নারী নিরাপত্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজধানী দিল্লিতে ফের চলন্ত বাসের ভিতরে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২০১২ সালের ভয়াবহ নির্ভয়া-কাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিয়ে এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাসের চালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। নির্যাতিতার অভিযোগ, কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে জোর করে বাসের ভিতরে আটকে রেখে সারারাত নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজধানীতে নারী সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির রানিবাগ এলাকায়। সোমবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন নির্যাতিতা। অভিযোগ, সরস্বতী বিহার বাসস্ট্যান্ডে একটি প্রাইভেট বাসে ওঠার পরেই পরিস্থিতি বদলে যায়। তরুণীর দাবি, বাসের চালক ও কন্ডাক্টর তাঁকে জোর করে ভিতরে টেনে নিয়ে যায় এবং তারপর চলন্ত বাসের মধ্যেই তাঁর উপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়। ভোরের দিকে তাঁকে রাস্তার ধারে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

ঘটনার পরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। অভিযুক্ত বাসচালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বাসটিও। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ঘটনার সময় বাসে অন্য কেউ ছিল কি না, কোন রুটে বাসটি চলছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজে কী তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষা, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, নির্যাতিতা বিবাহিতা এবং তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। ঘটনার পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই ফের প্রশ্নের মুখে দিল্লির নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বিশেষ করে চলন্ত বাসে নারী নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ২০১২ সালের বহুচর্চিত নির্ভয়া-কাণ্ড। সেই ঘটনায়ও রাজধানীর একটি চলন্ত বাসে এক তরুণীর উপর নৃশংস গণধর্ষণ ও অত্যাচার চালানো হয়েছিল। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর দেশজুড়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ দেখা গেলেও, এত বছর পরও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন