আরজি কর আবেগে বাজি? পানিহাটিতে বিজেপির প্রার্থী হতে পারেন ‘অভয়ার মা’—জোর জল্পনা

পানিহাটি আসনে ‘অভয়ার মা’-কে প্রার্থী করার জল্পনা তুঙ্গে, আরজি কর আবেগকে হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আগে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে তুমুল চর্চা। বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই শোনা যাচ্ছে বড় চমক—পানিহাটি আসনে পদ্ম শিবিরের প্রার্থী হতে পারেন ‘অভয়ার মা’। আরজি কর ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আবেগকে ভোটে কাজে লাগানোর কৌশল নিয়েই এই সিদ্ধান্ত, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদিও এখনও পর্যন্ত এই জল্পনায় সিলমোহর দেয়নি বিজেপি বা সংশ্লিষ্ট পরিবার।

অভয়ার পরিবারকে ঘিরে রাজনীতিতে আসার জল্পনা নতুন নয়। বিরোধী দলনেতার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের তাঁদের বাড়িতে যাওয়া—এই সব ঘটনাই সেই জল্পনাকে উসকে দিয়েছিল।

তবে সেই সাক্ষাতের পরই অভয়ার বাবা-মা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ‘ন্যায়বিচার’। অভয়ার বাবার কথায়, অর্জুন সিং কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন, ভোটে দাঁড়ানোর কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালেই নতুন করে জল্পনা ছড়ায়। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে লড়তে পারেন অভয়ার মা এবং সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি।

পানিহাটি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এবারও সেখানে দলের প্রার্থী হিসেবে বিদায়ী কাউন্সিলরের পুত্রকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাঁর জয়ের সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই জায়গায় আবেগঘন ইস্যুকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে জমাতে চাইছে বিজেপি—এমনটাই বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে এই ‘ইমোশনাল কার্ড’ আদৌ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একাংশ মনে করছে, এতে ভোটে প্রভাব পড়তে পারে, অন্যদিকে অনেকেই বলছেন, শুধুমাত্র আবেগ দিয়ে শক্ত রাজনৈতিক ঘাঁটি ভাঙা সহজ নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই জল্পনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি অভয়ার মা বা বিজেপি নেতৃত্ব। ফলে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন