পুজোর আগেই ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন—এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়ার এমন দাবিকে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। সেই জল্পনায় এবার কার্যত জল ঢেলে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) থেকে এই মুহূর্তে কেউ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না, অদূর ভবিষ্যতেও এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেই।
সিতাইয়ের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, এনসিপিআইয়ে থাকা ২০ জন সাংসদের মধ্যে তিনজন বাদে বাকি ১৭ জন বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর আগেই এই দলবদল হতে পারে। এমনকি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নিজের কোনও বাধা নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
বসুনিয়ার সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ে। বিশেষ করে তাঁর দাবিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক তৃণমূল সাংসদের নাম উঠে আসে। যদিও এই সাংসদরা বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের অবস্থান। তাঁর কথায়, “এই মুহূর্তে কেউ তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে না, অদূর ভবিষ্যতেও করবে না।” ফলে বসুনিয়ার ১৭ সাংসদকে বিজেপিতে নেওয়ার সম্ভাবনার দাবি যে দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, তা পরিষ্কার করে দিলেন তিনি।
শমীক অবশ্য এনসিপিআই সাংসদদের এনডিএ-কে সমর্থনের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কয়েকজন সাংসদ মিলে নতুন একটি দল তৈরি করেছেন এবং তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করেছেন। সেই রাজনৈতিক অবস্থানকে বিজেপি স্বাগত জানালেও, তাঁদের বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তবে শুধু দলবদলের সম্ভাবনা অস্বীকার করেই থামেননি শমীক। বসুনিয়ার মন্তব্যের জবাবে তিনি বিজেপির পুরনো রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির পতাকা হাতে নিলেই অতীতের সমস্ত রাজনৈতিক দায় বা অভিযোগ মুছে যাবে—এমনটা ভাবার কারণ নেই।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা ও রাজনৈতিক হিংসার যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছিল, সেগুলির প্রসঙ্গও তোলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। তাঁর দাবি, সেই সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর একাধিক ধরনের অত্যাচার হয়েছিল এবং দল সেই ঘটনাগুলি ভুলে যায়নি।
শমীকের বক্তব্যে উঠে আসে বিজেপি কর্মীদের খুন, মহিলা কর্মীদের উপর নির্যাতন, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, অতীতে যাঁদের বিরুদ্ধে এই ধরনের রাজনৈতিক অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা শুধু বিজেপিতে যোগ দিলেই তাঁদের অতীতের সবকিছু মুছে যাবে—দলের এমন কোনও নীতি নেই।
এদিকে বসুনিয়ার বক্তব্যকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, তাঁর দাবিতে একাধিক পরিচিত তৃণমূল সাংসদের নাম উঠে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই কি কোনও বড় দলবদলের প্রস্তুতি চলছে? যদিও বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই জল্পনায় আপাতত ব্রেক কষেছে।
রাজ্য বিজেপির বক্তব্য থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট, বর্তমানে তৃণমূলের কোনও সাংসদকে দলে নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছে না গেরুয়া শিবির। ফলে পুজোর আগে ১৭ সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের যে দাবি করেছেন বসুনিয়া, সেটি আপাতত তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই থাকছে। ভবিষ্যতে কোনও সাংসদ দলবদল করেন কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্তের উপর।



