বিজেপি নারাজ, তবে উপনির্বাচন নিয়ে মমতাকে সমর্থন জানালেন অধীর চৌধুরী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপি নারাজ, তবে উপনির্বাচন নিয়ে মমতাকে সমর্থন জানালেন অধীর চৌধুরী। রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃনমূল কংগ্রেস সরকার। তবে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও সেই ফল নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। মমতা নিজে ওই কেন্দ্রের ভোট পুনরায় গননার দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। যা এখন আদালতে বিচারাধীন। এদিকে ভোটে হারলেও দেশের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন ও তাঁর কাজকর্ম করছেন মমতা।

আরও পড়ুনঃ কলকাতায় পেট্রোল সেঞ্চুরি ছুঁতে আর তিন ধাপ! দেখে নিন দেশের অন্যত্র জ্বালানি তেলের দাম

তবে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যেই বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। নাহলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। কেননা আইন অনুযায়ী বিধায়ক না হয়ে যে কেউ ৬ মাস পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীর পদে কাজ চালাতে পারেন। কিন্তু ৬ মাসের মধ্যে তাঁকে বিধানসভার কোনও একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। নাহলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। এমন অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী দুদিন আগেই দাবি তুলেছেন দ্রুত উপনির্বাচন সম্পন্ন করার। সাংবাদিক বৈঠকে এই দাবি তুলে তিনি বলেন “অনেকগুলি কেন্দ্রে উপনির্বাচন বাকি। আমরা চাইব উপনির্বাচন হয়ে যাক। ৭ দিন প্রচারের জন্য দেওয়া হোক। সকাল ১০ থেকে ৭টা পর্যন্ত প্রচারের সময় দিলেই হয়ে যাবে। এর চেয়ে বেশি নিতে চাই না।”

প্রসঙ্গত রাজ্য বিধানসভায় এই মুহুর্তে ৭টি আসন ফাঁকা রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর ও সামসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়ে আছে সেখানকার প্রার্থীর মৃত্যুর কারনে। আবার কোচবিহার জেলার দিনহাটা ও নদিয়া জেলার শান্তিপুর কেন্দ্র দুটি ফাঁকা আছে সেখানকার নির্বাচিত দুই বিধায়ক পদত্যাগ করায়। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার খড়দহ ও দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার গোসাবা বিধানসভা কেন্দ্রের দুই বিধায়ক মারা যাওয়ায় সেখানকার আসন ফাঁকা রয়েছে। আবার কলকাতার ভবানীপুরের আসন থেকে বিধায়ক নিজেই ইস্তফা দিয়েছেন। এই ৭টি কেন্দ্রে তাই নভেম্বর মাসের মধ্যে উপনির্বাচন সেরে ফেলতে হবে। তবে কমিশনের তরফ থেকে উপনির্বাচন নিত্যে কোন উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে এর কারন বিজেপির নির্বাচনে অনীহা। ৬ মাসের মেয়াদ পার করে মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরানোর কৌশল নিয়েছেন তারা। এই সুরে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু জানিয়েছেন “মানুষের বিপদ বাড়িয়ে আর একটা ভোটের কোনও প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র একজনকে মুখ্যমন্ত্রী রাখতে হবে বলে কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের মাঝে নির্বাচন করতে হবে, এর কোনও মানে নেই। দরকার হলে ৬ মাস করে আরও দু’জন মুখ্যমন্ত্রী হবেন। আপাতত উপনির্বাচনের কোনও প্রয়োজন নেই।”

যার পাল্টা তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় জানিয়েছেন, “বিজেপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তাই ভোট চাইছে না। ভোটের আগে ব্রিগেডে সমাবেশ করে কোভিড বিধি ভেঙেছে বিজেপি। এখন উপনির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে কেন? সব জায়গায় হারবে বলে? বিজেপিই কোভিড বিধি ভেঙে এখন কদর্য রাজনীতি করছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, অগাস্টের আগে চলে আসতে পারে তৃতীয় ঢেউ। তখন এই ধরনের হুমকি যাঁরা দিচ্ছেন তাঁরা জনবিরোধী ভূমিকা পালন করছেন। মানুষের স্বার্থকে উপেক্ষা করে কদর্য রাজনৈতিক চিন্তাধারাকে তুলে ধরছেন।”

বিজেপি নারাজ, তবে উপনির্বাচন নিয়ে মমতাকে সমর্থন জানালেন অধীর চৌধুরী। এদিকে এই নিয়ে তৃনমূল কংগ্রেসকে সমর্থন জানিয়েছেন প্রবল মমতা বিরোধী বলে পরিচিত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। জনপ্রতিনিধি আইন সংশোধনের দাবি তুলে তিনি জানিয়েছেন “ভোট নিশ্চয়ই করতে হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে ভোটগ্রহণ জরুরি। তৃতীয় ঢেউ আসার আগে উপনির্বাচন সেরে ফেলা যেতে পারে। তবে এই বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ভোট না হলে গণতন্ত্র বাঁচবে কীভাবে! পুরভোট ও মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ভোট বাকি। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ৬ মাসের মধ্যে অর্থাত্‍ নভেম্বরের মধ্যে জিতে আসতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। সে কথা মাথায় রেখে কোভিড পরিস্থিতিতে ভারত সরকার আইনে সংশোধন করা উচিত যাতে ৬ মাসের পরিবর্তে ১ বছরের মধ্যে উপনির্বাচনে জিতে আসা যায়। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে সংশোধন করুক ভারত সরকার। শুধু যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিতে আসতে হবে এমন তো নয়, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকেও ৬ মাসের মধ্যে জিতে আসতে হবে। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা যেতেই পারে। তা ছাড়া ৬ মাস পরে ইস্তফা দিয়ে পরের দিন আবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভারতে কোনও ব্যবস্থা অপরিবর্তিত নয়। বদলের সুযোগ আছে। বিকল্প ব্যবস্থার কথা সবার ভাবা দরকার।” এখন দেখার শাসক ও বিজেপি ছাড়া বাকি বিরোধী দল্গুলি এই নিয়ে এবার নড়েচড়ে বসে কিনা নির্বাচন কমিশন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত