অর্থমনর্থম! ভোট প্রচারের টাকা আত্মসাৎ, বাংলার বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

বিজেপি সূত্রে খবর, এবার বুথপিছু ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল প্রার্থীদের। সাধারণভাবে একটি লোকসভা এলাকায় ১৯০০-র কাছাকাছি বুথ থাকে। সেই অনুযায়ী টাকার অঙ্কটা প্রায় ৪ কোটি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সদ্যসমাপ্ত লোকসভায় বাংলায় বিজেপির টার্গেট ছিল ৩০। সেখানে আসন সংখ্যা ১৮ থেকে কমে হয়েছে ১২। আর শুধু এ রাজ্যে কেন, গোটা দেশেই বিজেপির ফলাফল ভালো হয়নি। একদিকে যখন নির্বাচনে ভরাডুবি নিয়ে ময়নাতদন্ত চলছে দলের অভ্যন্তরে ঠিক তখনই আবার একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল এ রাজ্যের পদ্ম প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। ভোট প্রচারে দলের তরফে যে টাকা দেওয়া হয়েছিল প্রার্থীদের, তার অনেকটাই নাকি তারা নিজেরা আত্মসাৎ করেছেন!

আরও পড়ুন: মমতার বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য-জোরদার মুখ নেই বিজেপির, স্বস্তিকায় স্বীকার করে নিল RSS

নির্বাচনের প্রচারের জন্য প্রতিটা দলের পক্ষ থেকেই প্রার্থীদের টাকা দেওয়া হয়। লোকসভায় সেই টাকার পরিমাণ থাকে অনেকটাই বেশি। বিজেপি সূত্রে খবর, এবার বুথপিছু ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল প্রার্থীদের। সাধারণভাবে একটি লোকসভা এলাকায় ১৯০০-র কাছাকাছি বুথ থাকে। সেই অনুযায়ী টাকার অঙ্কটা প্রায় ৪ কোটি। দলের তরফে যে অর্থ দেওয়া হয়, তার একটা মোটা অংশ যায় প্রার্থীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। সেই টাকা আসতে কিছুটা সময় লাগে। তার আগে যা খরচ তা প্রার্থী নিজে করেন এবং পরে তা দলের তহবিল থেকে নিয়ে নেন। আলাদা করে পোস্টার-ব্যানার ছাপানোর খরচ হিসাবেও মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয় জেলা নেতৃত্বের হাতে।

অর্থমনর্থম! ভোট প্রচারের টাকা আত্মসাৎ, বাংলার বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
অর্থমনর্থম! ভোট প্রচারের টাকা আত্মসাৎ, বাংলার বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

তবে, ব্যতিক্রমও হয়। যেমন, বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের সব খরচ পার্টিই করেছিল। একে ভোটে হারার পর থেকেই নেতৃত্বকে নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠছে সংগঠন নিয়েও। তারই মধ্যে আবার অনেক জেলা থেকে রাজ্যনেতৃত্বের বিরুদ্ধে আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ উঠল। মূলত পরাজিত প্রার্থী এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠেরাই সেই অভিযোগ তুলছেন।

অর্থমনর্থম! ভোট প্রচারের টাকা আত্মসাৎ, বাংলার বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

অর্থমনর্থম! ভোট প্রচারের টাকা আত্মসাৎ, বাংলার বিজেপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

এই বিষয়ে প্রথমেই সরব হন কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায়। তাঁকে দিয়ে চেকবইয়ের অনেক পাতায় সই করিয়ে টাকা তোলা হলেও তিনি পরে হিসাব পাননি বলে দাবি। এছাড়াও ডায়মন্ড হারবার, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, বসিরহাট কেন্দ্রেও একই অভিযোগ উঠছে। বড় সমাবেশের জন্য আলাদা টাকা দেওয়া হয়। যেমন, প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা যখন সভা করেন। সেই বাড়তি খরচের টাকা আসে জেলা নেতৃত্বের কাছে। জেলার নেতারাই এই টাকা নয়চয় করেছেন বলে অভিযোগ। সেক্ষেত্রে প্রার্থীদের যতটা সাবধানতা বজায় রাখতে হত, তা তাঁরা অভিজ্ঞতা কমের কারণেই হোক বা অন্য কারণেই হোক, পুরোপুরি বজায় রাখতে পারেননি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত