নজরবন্দি ব্যুরোঃ গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে ক্ষোভের আগুন যেন কিছুতেই প্রশমিত হচ্ছে না। এমনকি ক্ষোভের আগুনে জেরবার হয়ে সমস্ত সেল ভেঙে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তবুও আলাদা করে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতারা। শনিবার পোর্ট ট্রাস্টের একই ছাদের তলায় বিজেপির বিক্ষুব্ধরা। কারা থাকবেন? তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Uttar Pradesh: রিপোর্ট কার্ডে পিছিয়ে যোগী, মুখ্যমন্ত্রী পদে এগিয়ে মোদির প্রাক্তন আমলা


শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের অতিথিশালায় হবে বৈঠক। কিন্তু কারা থাকতে পারেন বিক্ষুব্ধ নেতাদের তালিকায়? সেই প্রশ্ন কিন্তু রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে। সেই তালিকায় শোনা যাচ্ছে প্রথম দিকে রয়েছেম বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু, থাকার কথা জয়প্রকাশ মজুমদার। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন সহ সভাপতি রাজকমল পাঠকের থাকার কথা শোনা যাচ্ছে।
যদিও বিক্ষুব্ধ নেতাদের এই বৈঠক মাথাব্যাথার কারণ হলেও বিশেষ কিছু বলতে চাইছেন না বঙ্গ বিজেপির নেতারা। বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, এবিষয়ে কিছু জানেন না। দলের দায়িত্বে যারা দীর্ঘদিন ছিলেন তাঁরাই দলের দায়িত্বে আগামী দিনে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।



উল্লেখ্য, দলের রাজ্য কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিজেপিতে ক্ষোভের উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছিল। এরপর জেলা সভাপতির পদ থেকে বাদ পড়ার পরেই বিজেপি নেতাদের মধ্যে বিক্ষোভ বাড়তে শুরু করে। মুলত সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিলেন মতুয়া সমাজের বিধায়করা। প্রথমে উত্তর ২৪ পরগণা এবং নদীয়া থেকে ৫ জন বিধায়ক হোয়াটাসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়েন।
সেই তালিকায় ছিলেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কির্তনীয়া, গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর, হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার, রাণাঘাটের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী এবং কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায়। পাঁচ বিধায়কের থেকে বিজেপির দূরত্ব যেন মতুয়াদের ক্রমবর্ধমান বলে মনে হচ্ছিল। একইসঙ্গে বিজেপিতে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন বাঁকুড়ার চার বিধায়ক। তাঁরা হলেন,বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা, ওন্দার বিধায়ক অমরনাথ শাখা, সোনামুখীর বিধায়ক দিবাকর ঘরামি এবং ইন্দাসের বিধায়ক নির্মল ধাড়া। সম্প্রতি বিজেপির সমস্ত গ্রুপ থেকে অব্যহতি নেন বিজেপি বিধায়ক হীরন চট্টোপাধ্যায়।
পোর্ট ট্রাস্টের একই ছাদের তলায় বিজেপির বিক্ষুব্ধরা, বিজেপিতে ভাঙন?

এরপর বিজেপির যুব সেল থেকে সরিয়ে নিয়েছেন শঙ্কুদেব পণ্ডা। আজকের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বৈঠকে অন্যান্য নেতাদের মধ্যে থাকতে পারেন উত্তর ২৪ পরগণার জেলা সংগঠনের দায়িত্বে থাকা নেতারাও। শোনা যাচ্ছে অমিত মালব্য এবং অমিতাভ চক্রবর্তীর ছাঁটকাটের জন্য বাড পড়েছেন বহু নেতারা। কিন্তু ক্ষতে প্রলেপ দিতে না পেরে সমস্ত কিছু ভেঙে দিয়ে বসলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। এখন আলাদা করে বৈঠক করে তাপ বাড়চ্ছেন বিক্ষুব্ধ নেতারা।







