নজরবন্দি ব্যুরোঃ বঙ্গ রাজনীতির দলবদলের আবহে এবার বেসুরো হলেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। সম্প্রতি ঠাকুরনগরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসকে। ৩০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করার পর শুভেন্দু অধিকার সহযোগিতায় ভিতরে যান বিশ্বজিৎ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ২০ মিনিট বৈঠক করা করেন বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস।
আরও পড়ুনঃ কাপুরুষ প্রধানমন্ত্রী! শহিদস্মরণ থেকে লাদাখ সীমান্ত ইস্যু, মোদীকে তোপ রাহুলের


সেই কারণেই আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও শাহ’র সভায় প্রবেশে বাধাপান তিনি। রাজনৈতিক মহলের দাবি এই ঘটনার নেপথ্যে আছে সাংসদ শান্তুনু ঠাকুর। মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে বিবাধ সৃষ্টি হয়েছে গেরুয়া শিবিরের এই সাংসদ ও বিধায়কের মধ্যে। এবার শান্তুনু ঠাকুরের উপর সরাসরি ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ আনলেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক। বিশ্বজিৎ অভিযোগ করেছেন, সাংসদ শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের সঙ্গে, দলের সঙ্গে মিলে তাকে ব্যাকমেল করছেন।
এর প্রতিক্রিয়া দিয়ে শান্তুনু বলেন, বিশ্বজিৎ দাসকে দলের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য কে বা কারা উস্কানি দিচ্ছেন তা আগে বলুন। গতকাল শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে শান্তুনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন বিশ্বজিৎ। সাংবাদিক বৈঠকেই তিনি ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ”শান্তনু ঠাকুর দলের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। মতুয়াদের ব্যবহার করে দলের উপর অন্যায়ভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। দলের সঙ্গে ব্ল্যাকমেল করে বনগাঁকে আলাদা সাংগঠনিক জেলা করিয়েছেন। দলকে তিনি রাস্তায় এনে দাঁড় করিয়েছেন।”
নাগরিকত্ব আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সিএএ নিয়ে শান্তনু অনেক কিছু বলছেন। তিনি বলেছেন, আজই সিএএ চালু করতে হবে। আমি মনে করি, যাঁরা ভোট দেন, তাঁরা সকলেই নাগরিক। তাঁদের ভোটেই তো আমি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছি। তাঁরা তো আর অবৈধ নাগরিক নন।” এর পরই শান্তুনু সতর্ক করেছেন তারই দলের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসকে। তিনি বলেন, “কে কার সঙ্গে প্রতারণা করছে, তা মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনকে জিজ্ঞেস করলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। CAA নিয়ে দল যা ঠিক মনে করেছে, সেটাই করেছে।


কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই মতুয়াদের বার্তা দিতে এসেছিলেন। আর উনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হয়ে এসব বলছেন! এত মন্তব্য করলে পরবর্তীতে জনপ্রতিনিধি হতে সমস্যায় পড়বেন।” দলের অন্দর কোন্দল সামনে আসতেই অসস্তিতে বিজেপি। নির্বাচনের ঠিক আগেই একই দলের সাংসদ ও বিধায়কের এই কোন্দল বিরোধীদের জন্য অস্ত্র প্রমাণিত হবে বলেই দাবি রাজনৈতিক মহলের।







