কুশল দাসগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ বিধানসভা ভোটের আগে দাবি পূরণ না হলে যেকোন সিদ্ধান্ত! একদিকে যখন বিমল গুরুং সভা করলেন ডুয়ার্সে তখন অন্যদিকে শুকনাতে নিজের সমর্থনে সভা করলেন বিনয় তামাং। তিনি জানালেন বিমল গুরুং নিজে আবার পাহাড়ে ফিরে গন্ডগোল করতে চাইছে, পাহাড়ের ভারসাম্য নষ্ট করতে চাইছে। তখন তারা চাইছেন যাতে পাহাড় ঠিকমত থাকে এবং পাহাড়ের মানুষ যাতে কোনভাবেই অশান্তি না ভোগ করেন। বিনয় তামাং আরো জানান তারা চান পাহাড়ের শান্তি বজায় থাকুক এবং পাহাড় ঠিক আগের মতনই চলুক। তাই তারা চান বিমল গুরুং এর আসল চেহারা পাহাড়ের মানুষ দেখুক। বিমল গুরুং এর সভার মত এতটা ভিড় না হলেও বিনয়ের সভাতের এসেছিলেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
আরও পড়ুনঃ ক্ষমতায় এলেই ৭৫ লক্ষ চাকুরি; প্রতিশ্রুতির কার্ড বিলি শুরু করল বিজেপি!


বিধানসভা ভোটের আগে দাবি পূরণ না হলে যেকোন সিদ্ধান্ত! এদিনের সভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিনয় তামাং বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাদের সাংবিধানিক ন্যায়ের দাবী পূরণ না হলে তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পাহাড়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে ভারত-ভুটান সন্ধি(১৯৪৯) এবং ইন্দো-নেপাল(১৯৫০) সন্ধি রদ করার দাবী জানান তিনি। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের জন্য দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দাবীও জানান। তিনি আরও বলেন, ডুয়ার্স এবং পাহাড়কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাবেন।
অন্যদিকে, ডুয়ার্সে একটি জনসভায় বক্তব্যে বিমল গুরুং জানান বিজেপি বাংলাকে দুভাগ করতে চাইছে। তিনি বলেন বিজেপি এখন দু-মুখো রাজনীতি করে চলেছে। এতদিন আশা দিয়েও তারা কথা রাখে নি। পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এতদিন যারা এক কথা বলেছিলো এখন তারাই উলটো সুরে গান গাইছে।
গুরুং স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন আগামী দিনগুলোতে তারা তৃণমূলের সাথেই থাকতে চান। এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য পাহাড় থেকে সমূলে বিজেপিকে উৎখাত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের হাতে সর্বময় ক্ষমতা তুলে দেওয়া। কারন হিসেবে বিমল বলেন যতদিন বিজেপি থাকবে পাহাড়বাসী শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাই আগামী নির্বাচনগুলিতে গুরুং ডুয়ার্সের মানুষদের তৃণমূলের সাথে থাকবার আহ্বান জানান।


গুরুঙ্গ নিজে জনসভাতে তৃণমূলকে সমর্থন করায় বিরোধী বিজেপী শিবির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তেমনি তৃণমূলের অন্দরেও বিক্ষোভ বাড়ছে। তবে গুরুং ক্ষোভে বিনয় পন্থীরা খানিক বিদ্রোহ করলেও ফায়দা নেওয়ার মত যায়গায় নেই বিজেপি। তবে এদিন বিনয়ের সুরে কিছুটা বিজেপি বিনয় লক্ষ্য করা গেছে… এখন দেখার পাহাড়ে রাজনীতির জল গড়ায় কোনদিকে।







