নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ তদন্তে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নজরদারিতে এই মামলার তদন্ত হবে। ইতিমধ্যেই ২৬৯ জনের চাকরি চলে গিয়েছে প্রাথমিকে। যদিও জানা যাচ্ছে সেই সংখ্যা শুধুমাত্র হিমশৈলের চূড়ামাত্র। এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় আজ বলেছেন ১৭ হাজার শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে রাজ্যে, তিনি নিয়োগ করতে চান কিন্তু আদালতের জন্যে সেটা পারছেন না।
আরও পড়ুনঃ বাতিল ৩৮টি লোকাল, বিপাকে দূরপাল্লার যাত্রীরা, দমদম শাখায় ১০ ঘণ্টা বন্ধ ট্রেন চলাচল।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি অনুষ্ঠানে চাকরির দাবি করে প্ল্যাকার্ড দেখিয়েছিলেন টেট-উর্ত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবারেও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান কয়েক জন এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থী। তখন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি খোঁজ নিয়েছি, ১৭ হাজার শিক্ষকের চাকরি রয়েছে আমার কাছে। কিন্তু আমি নিয়োগ করব কীভাবে? আদালত অনুমতি না দিলে নিয়োগ করা তো সম্ভব নয়। আমি বরাবরই বলেছি, সব ক্ষেত্রেই আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।”

মঙ্গলবার আসানসোলে মমতার সভার মাঝে মঞ্চের কাছাকাছি জায়গা থেকে পোস্টার উঁচিয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেখা যায়। দেখামাত্রই মমতা মঞ্চ থেকে অভিযোগ করেন, বিজেপি এবং সিপিএম তাঁদের পাঠিয়েছে! চাকরিপ্রার্থীরা জানান, তাঁরা শুধু কাজের কথা বলতেই এসেছেন। যার উত্তরে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি তো কোর্টের অর্ডারই মানব ভাই! আপনারা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন। ১৭ হাজার চাকরি রেডি। পাঁচ হাজার জন নিজেদের ‘ডিপ্রাইভড’ মনে করেছিলেন, তাঁদের জন্যও চাকরির ব্যবস্থা করছি। কিন্তু আমি তো কোর্টে যাইনি। আপনারা গিয়েছেন!’’

আরও পড়ুনঃ প্রাথমিকে নজিরবিহীন দুর্নীতি, চাকরি হারাতে চলেছেন সাড়ে ১৭ হাজার কর্মরত শিক্ষক!
এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিকাশবাবুদের (বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য) গিয়ে বলুন, আপনার তো টাকার অভাব নেই। আপনি আমাদের চাকরি বন্ধ করেছেন, আপনিই ব্যবস্থা করে দিন।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সেই কথার জবাব দিয়েছেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। এদিন তিনি ইঙ্গিত দেন চাকরি যাবে ১৭ হাজার দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকের। তাঁর কথায়, “রাজ্যে ১৭ হাজার পদে দুর্নীতিগ্রস্তদের নিয়োগ করা হয়েছে। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে এই নিয়োগ হয়েছে। যারা যোগ্য নন, তাদের থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। সেজন্যই এই নিয়োগের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হবে।”
চাকরি যাবে ১৭ হাজার দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকের, মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিস্ফোরক বিকাশ

তাঁর কথায়, “সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিয়োগ হয়েছে। তাই যারা যোগ্য প্রার্থী তাঁরা আদালতে গিয়েছেন। মামলা করেছেন। আমি তাঁদের হয়ে সওয়াল করেছি। এটা আমার নৈতিক দায়। দুর্নীতি দেখলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করা স্বাভাবিক কাজ। যারা চাকরি দিয়েছেন তাদেরও সাজা হবে। মেধার ভিত্তিতে ১৭ হাজার নিয়োগ হবে। উনি ভয় দেখাচ্ছেন। বলছেন তোমরা মামলা প্রত্যাহার করে নাও, বিকাশবাবুর বাড়ি যাও। তাঁরা আসুক। আমি তাঁদের নিয়ে নবান্ন অভিযান করব।”
উল্লেখ্য, বেআইনি ভাবে দ্বিতীয় প্যানেল প্রকাশ করার উদ্দেশ্য ছিল অতিরিক্ত প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া। ওই দ্বিতীয় তালিকা থেকে মোট ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। এরপরেই আদালতের তত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। সূত্রের দাবি, সিবিআই তদন্ত হলে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪২ হাজারের মধ্যে কমপক্ষে ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে বিপুল টাকার বিনিময়ে।



