বিহারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) চলাকালীন প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ পড়ে যায়। এই বিশাল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে ডিলিটেড ভোটার লিস্ট প্রকাশ করতে হবে। আদালতের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কমিশন তালিকা প্রকাশ করেছে।


বিহারে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ, ‘Deleted’ তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন

কোথায় পাওয়া যাবে বাদ যাওয়া ভোটারদের নাম?
কমিশনের নির্দেশে ইতিমধ্যেই বিহারের প্রতিটি জেলার ওয়েবসাইটে ডিলিটেড ভোটার লিস্ট আপলোড করা হয়েছে। সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ভোটার পরিষেবা পোর্টালে (voters.eci.gov.in) গিয়ে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর অথবা সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের বুথ নির্বাচন করে নাম অনুসন্ধান করা যাচ্ছে।
পোর্টালে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, খসড়া তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে আধার কার্ডের কপি জমা দিয়ে আবেদন করা যাবে। ডাউনলোডযোগ্য পিডিএফ ফাইলে প্রতিটি ভোটারের নামের পাশে সিরিয়াল নম্বর, এপিক নম্বর, আত্মীয়ের নাম, বয়স, লিঙ্গ, আগের তালিকার অংশ নম্বর এবং নাম বাদ পড়ার কারণ (১ আগস্ট ২০২৫ অনুযায়ী) উল্লেখ রয়েছে।
সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে প্রতিটি সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে এই তথ্য প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং পঞ্চায়েত অফিসেও বাদ যাওয়া ভোটারদের তালিকা রাখতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই দেখতে পারেন। আদালতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২২ আগস্ট নির্ধারিত হয়েছে। অর্থাৎ বাদ যাওয়া ভোটারদের নাম এখন আর গোপন নয়। যেকেউ নিজের বা পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় আছে কি না তা যাচাই করতে পারবেন।


কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অভিযোগ
এই ডিলিটেড ভোটার লিস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দিয়ে আসলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘ভোটচুরি’ ঘটানো হয়েছে। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এ অভিযোগকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি দাবি করেন, “কমিশনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জনগণকে নিশানা করা হচ্ছে। এভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।” তাঁর মতে, মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ভোটারদের মনে অবিশ্বাস তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে।
রাহুল গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ
নাম না করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর উদ্দেশে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, যদি ভোটার লিস্ট বাদ যাওয়ার অভিযোগে সত্যতা থাকে, তবে ৭ দিনের মধ্যে প্রমাণ-সহ হলফনামা দিতে হবে। তা না হলে দেশবাসীর সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিভ্রান্তি তৈরি করে কোনওভাবেই নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।
ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক
৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় সংখ্যা। এর ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভেবে পাচ্ছেন না, কেন হঠাৎ তাঁদের নাম কেটে দেওয়া হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনলেও রাজনৈতিক চাপানউতোর চলতেই থাকবে।
বিহারের ডিলিটেড ভোটার লিস্ট প্রকাশের মাধ্যমে আপাতত স্বচ্ছতার পথে একধাপ এগোল নির্বাচন কমিশন। তবে এত বিপুল সংখ্যক ভোটার বাদ যাওয়া যে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দেবে, তা নিশ্চিত। আগামী ২২ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হবে।







