আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর এ বার আরও বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ড সূত্রের দাবি, চলতি বছরে ভারতীয় দলের যে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কিছু ঘোষণা হয়নি, বিসিসিআই স্পষ্ট করেছে—এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারত সরকার।
গত বছরেও হয়নি বাংলাদেশ সফর
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেখানে যায়নি টিম ইন্ডিয়া। সে সময় বাংলাদেশের অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র ভারত-বিরোধী মনোভাবকেই মূল কারণ হিসেবে দেখা হয়েছিল। সেই সফর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।


বিসিবির সূচি ঘোষণা, ভারতের নীরবতা
সেই বাতিল সফর নতুন করে আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছিল Bangladesh Cricket Board (বিসিবি)। শুক্রবার তারা ঘোষণা করে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সূচি ঘোষণার পরেও Board of Control for Cricket in India (বিসিসিআই)-এর তরফে কোনও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
মুস্তাফিজুর সিদ্ধান্তের পর জল্পনা আরও জোরাল
আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—তবে কি বাংলাদেশ সফরও বাতিলের পথে? বোর্ডের অন্দরমহলের খবর, Rohit Sharma ও Virat Kohli-দের বাংলাদেশে পাঠানো নিয়ে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে।
বিসিসিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সফরের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি নেওয়া হবে। সরকার যদি পরিস্থিতি বিচার করে সবুজ সংকেত দেয়, তবেই সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বড় কোনও রাজনৈতিক পরিবর্তন না হলে ভারতীয় দল বাংলাদেশে যাবে না—এমনটাই ধারণা।


পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—একই নীতি?
ক্রিকেট মহলে আরও আলোচনা চলছে, বিসিসিআই কি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতোই দেখছে? বাস্তবতা হল, ভারত বর্তমানে পাকিস্তানের সঙ্গে কেবলমাত্র আইসিসি বা বহুদেশীয় টুর্নামেন্টেই খেলে, কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়। বোর্ড সূত্রের ইঙ্গিত, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আপাতত একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে।
কূটনীতির প্রশ্নও উঠছে
তবে এখানেই উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ভারত সরকার এখনও বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। বরং আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। সেই অবস্থায় ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুরোপুরি স্থগিত রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।
সব মিলিয়ে, মুস্তাফিজুর ইস্যুর পর বাংলাদেশ সফর নিয়েও যে ভারতের অবস্থান আরও কড়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট। এখন নজর—ভারত সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই।







