গণপিটুনিকাণ্ডে পুলিশের বড় পদক্ষেপ! মুখ্যমন্ত্রীর বারুইপুর সফরের আগের রাতেই আরও ৩ গ্রেফতার

বারুইপুরের সূর্যপুরে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল মামলায় আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত যুবকের বাড়ি সফরের ঠিক আগেই ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল পাঁচ। একই দিনে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনও করবেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বারুইপুরের গণপিটুনিকাণ্ড ঘিরে তদন্তে বড় অগ্রগতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়ি সফরের ঠিক আগের রাতেই আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই গ্রেফতারের ফলে গণপিটুনির ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ। শনিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

গত রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাঁকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতেই সন্দেহের বশে স্থানীয় যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর এলাকায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, গণপিটুনিতে প্রাণ হারানো ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ ছিলেন। তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গণপিটুনির ঘটনায় এর আগে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে আরও তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। শনিবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হবে। অন্যদিকে, ঘটনার দিন পুলিশকে বাধা দেওয়া, হামলা চালানো এবং রেল অবরোধ সংক্রান্ত পৃথক মামলাতেও একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বারুইপুরের পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মেনে সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির ঘোষণা করেন তিনি। প্রশাসনের দাবি, মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সেই ফাঁড়ির কাজ শেষ হয়েছে। শনিবার সেখানে উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি সূচি অনুযায়ী, প্রথমে নির্যাতিতার বাড়িতে যাবেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তিনি পৌঁছবেন নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করে কলকাতায় ফিরবেন।

ইন্দ্রজিতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। কয়েকজন তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করে। সেই আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, প্রশাসন ইতিমধ্যেই তাঁদের বাড়ির মেরামতির কাজ শুরু করেছে এবং নিরাপত্তার জন্য বাড়ির সামনে সিসিটিভি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁরা নিজেদের দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরবেন বলেও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের এনকাউন্টারে। পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পাল্টা গুলি চালানো হয়। সেই ঘটনারও তদন্ত চলছে। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

বারুইপুরের এই দ্বৈত অপরাধের তদন্ত এখন একাধিক দিক থেকে এগোচ্ছে। একদিকে গণপিটুনির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ, অন্যদিকে নাবালিকার ধর্ষণ-খুন মামলার তদন্ত—দুই ক্ষেত্রেই পুলিশের তৎপরতা জোরদার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর শনিবারের সফরকে ঘিরেও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন