বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে বেআইনি মদ এবং মাদক চক্রের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতেই তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের সর্বত্র বিশেষ অভিযান চালিয়ে বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা ও চরসের আড্ডা চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকেও এই ধরনের অপরাধের খবর পুলিশকে জানাতে আবেদন জানান তিনি।
শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকেও আশ্বাস দেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতার।
সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, বারুইপুরের নৃশংস অপরাধের পিছনে বেআইনি মদের ঠেক এবং মাদক ব্যবসার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে তাঁর ধারণা। তাঁর কথায়, প্রতিটি অপরাধেরই একটি কারণ থাকে, আর এই ধরনের অবৈধ মাদকচক্র সমাজে অপরাধের পরিবেশ তৈরি করছে। তাই গ্রামের মানুষকে এগিয়ে এসে পুলিশের কাছে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত-সহ জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, শুধু স্থানীয় থানার পুলিশ নয়, প্রয়োজন হলে ব্যাটেলিয়নের বাহিনীও বিশেষ অভিযানে নামাতে হবে। বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব পৃথকভাবে পুলিশ আধিকারিকদের হাতে তুলে দিয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালানোর কথা বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সীমান্ত এলাকায় ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। তবে শুধু সীমান্ত নয়, গ্রামাঞ্চল, ছোট শহর, বাজার, বাসস্ট্যান্ড এবং রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকাতেও একই ধরনের কড়া নজরদারি প্রয়োজন। তাঁর মতে, বেআইনি মদ ও মাদকের ঠেক সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা গেলে সমাজকে এক বড় সামাজিক দূষণ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এদিন বারুইপুরের গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নিহতের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। সদ্য উদ্বোধন হওয়া সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতেই তাঁর নিয়োগ হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।
এছাড়াও নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারকেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। যদিও সেই সাহায্যের পরিমাণ তিনি প্রকাশ করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, পরিবার চাইলে নিজেরাই সেই বিষয়ে জানাতে পারে। একইসঙ্গে তিনি জানান, স্থানীয় মানুষের দাবি মেনেই সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আইন-শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালীভাবে বজায় রাখা যায়।



