‘কমিউনিস্ট ও বুদ্ধিজীবীদের জন্যে অপরাধ বেড়েছে, ওদের মাথায় ডিম ছুড়ুন’, নিদান দিলীপ ঘোষের!

বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তোলা বুদ্ধিজীবী ও বাম নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে বিতর্কিত মন্তব্যে ফের রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বারুইপুর এনকাউন্টার ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার কলকাতার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে তিনি এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তোলা বাম নেতা তথা কমিউনিস্ট ও বুদ্ধিজীবীদের তীব্র আক্রমণ করেন। এমনকি তাঁদের উদ্দেশে “মাথায় ডিম ছুড়ুন” বলেও মন্তব্য করেন, যা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী। সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এরা বুদ্ধিজীবী নন, সমাজবিরোধীদের পক্ষ নেওয়া মানুষ। অপরাধীরা সাজা পেলেও এরা আন্দোলন শুরু করে। মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি।”

এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি দাবি করেন, “কমিউনিস্ট এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের জন্যই সমাজে অপরাধ বেড়েছে। এদের মাথায় ডিম ছুড়ুন।” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, বারুইপুরে ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হন। ঘটনার পর একাংশ পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করলেও, কয়েকজন বুদ্ধিজীবী ও আইনজীবী এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,  “এটা সুপরিকল্পিত ঘটনা। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের মতো মূল সাক্ষীকেই মেরে ফেলা হল।”

অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অতীতে প্রকাশ্যে ডিম বা কালি ছোড়ার রাজনীতির বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়।” ফলে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য এবং বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বারুইপুর কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরই রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে এবং চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হন। ঘটনায় প্রভাসের পরিবারের একাংশ যেমন পুলিশের পদক্ষেপকে মেনে নিয়েছে, তেমনই সমাজের আরেক অংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষের বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতরের ইন্ধন জোগাল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন