এক্সট্রা টাইমে বাজিমাত, আলভারেজ ও মার্তিনেজের গোলে বিশ্বকাপ সেমিতে মেসিরা

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অতিরিক্ত সময়ে ২-১ ব্যবধানে জয় পেল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট, জুলিয়ান আলভারেজের দুরন্ত গোল এবং এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজের একাধিক অসাধারণ সেভে শেষ চার নিশ্চিত করল লিওনেল স্কালোনির দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও নাটকীয় জয় আর্জেন্টিনার। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের কঠিন প্রতিরোধ ভাঙতে না পারলেও অতিরিক্ত সময়ে জুলিয়ান আলভারেজের অসাধারণ গোল এবং শেষদিকে লাউতারো মার্টিনেজের নিশ্চিত ফিনিশিংয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে উঠল লিওনেল মেসির দল। তবে এই জয়ের অন্যতম নায়ক গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ, যিনি একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় আর্জেন্টিনাকে। প্রথম দিকেই কর্নার থেকে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রসে দুরন্ত হেডে দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের অ্যাসিস্ট সংখ্যাকে দুই অঙ্কে নিয়ে যান মেসি, যা তাঁকে দিয়েগো মারাদোনার বিশ্বকাপ অ্যাসিস্টের রেকর্ডেরও ওপরে তুলে দেয়।

গোলের পর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে তুলে নেয় সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের মধ্যে টানা ম্যাচ খেলার ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। সেই সুযোগে সুইসরা একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলে। প্রথমার্ধেই কয়েকবার বড় পরীক্ষার মুখে পড়েন দিবু মার্টিনেজ। বিশেষ করে ৪১ মিনিটে একেবারে এক-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তাঁর দুর্দান্ত সেভ আর্জেন্টিনাকে লিড ধরে রাখতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয়ার্ধেও সুইজারল্যান্ডের চাপ অব্যাহত থাকে। একের পর এক আক্রমণের পর অবশেষে ৬৭ মিনিটে দলগত আক্রমণ থেকে সমতাসূচক গোল করেন এনডয়ে। সেই মুহূর্তে ম্যাচের গতি অনেকটাই সুইজারল্যান্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল।

তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় মাত্র পাঁচ মিনিট পর। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো। ১০ জনে নেমে এলেও দুর্দান্ত রক্ষণে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্কোরলাইন ১-১ রেখে দেয় সুইসরা। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

এক্সট্রা টাইমের বড় অংশেও সুইজারল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউটের দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন জুলিয়ান আলভারেজ। সেই গোলেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।

শেষদিকে লাউতারো মার্টিনেজ আরও একটি গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন। সুইজারল্যান্ড শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালালেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। এবার সেমিফাইনালে তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও সুইজারল্যান্ড তাদের সংগঠিত ফুটবল এবং লড়াকু মানসিকতার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর