ভোটের উত্তাপ, অনিশ্চয়তা আর রাজনৈতিক পালাবদলের আশঙ্কায় টানটান ছিল গোটা বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষমতার সম্ভাব্য রূপরেখা—প্রাথমিক হিসাবে একাধিক আসনে এগিয়ে বিএনপি, পাল্লা দিচ্ছে জামায়াত-সমর্থিত জোটও।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুপুর ২টো পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৪৭.৯১ শতাংশ। শেষ পর্যন্ত মোট ভোটের হার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলে মনে করছেন কমিশনের আধিকারিকরা।
ভোট শেষ হতেই বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে শুরু হয় গণনা প্রক্রিয়া। সূত্রের খবর, প্রাথমিক ট্রেন্ডে ৩৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামি এবং ছাত্র-যুব নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১ দলীয় জোট এগিয়ে রয়েছে ১৭টি আসনে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সংসদের মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে এ বার ভোট হয়েছে ২৯৯টি আসনে। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কার্যকর করা নিয়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ বারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই ভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে ছিল তীব্র উত্তেজনা। মূল লড়াই দেখা যাচ্ছে দুই রাজনৈতিক শিবিরে—একদিকে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি, যার নেতৃত্বে এখন তাঁর ছেলে তারেক রহমান; অন্যদিকে জামায়াত-এ-ইসলামি ও ছাত্র-যুব সংগঠনগুলিকে নিয়ে গঠিত ১১ দলীয় জোট।
ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কথা ১৩ ফেব্রুয়ারি। ততক্ষণ পর্যন্ত নজর থাকবে গণনার প্রতিটি ধাপে—কার হাতে যাবে বাংলাদেশের ক্ষমতার চাবিকাঠি, তা নিয়েই এখন প্রহর গুনছে গোটা দেশ।



