ভারতের জন্য বরাদ্দ জমিতেই অস্ত্র কারখানা গড়ছে ইউনূস সরকার! দু দেশের সম্পর্কের সমীকরণে ফের বড় ধাক্কা

হাসিনা আমলে ভারতের জন্য বরাদ্দ মিরসরাইয়ের ৮৫০ একর জমিতে অস্ত্র কারখানা তৈরির সিদ্ধান্ত ইউনূস সরকারের, চিন-পাকিস্তান যোগের জল্পনায় বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের সমীকরণে ফের বড় ধাক্কা। ভারতের জন্য নির্দিষ্ট করা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল করে সেই জমিতেই অস্ত্র কারখানা গড়ার সিদ্ধান্ত নিল ঢাকা। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে যে ৮৫০ একর জমি শিল্প বিনিয়োগের জন্য ভারতকে বরাদ্দ করেছিল শেখ হাসিনার সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস-এর আমলে সেই পরিকল্পনায় ইতি টানা হল। পরিবর্তে সেখানে তৈরি হতে চলেছে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিফেন্স জ়োন—যাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

হাসিনা জমানায় ভারতের জন্য বরাদ্দ ওই জমিতে উৎপাদন, পরিকাঠামো ও রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ করে ভারতের সংস্থাগুলির লগ্নিতে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্তে সেই অধ্যায় কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলে একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে ‘বন্ধু’ দেশের সহায়তায়। যদিও সরকারিভাবে এখনও বিনিয়োগকারীদের নাম ঘোষণা করা হয়নি, তবু কূটনৈতিক সূত্রে দাবি—এই প্রকল্পের নেপথ্যে চিন ও পাকিস্তানের প্রভাব উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই দুই দেশের সক্রিয়তা দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কোনও বিষয় নয়।

এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই দেখছেন ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে নীতিগত মোড় ঘোরার ইঙ্গিত হিসেবে। আদানি প্রকল্প ও তিস্তা জলচুক্তি ঘিরে আগে থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, মিরসরাইয়ের এই সিদ্ধান্ত সেই দূরত্ব আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জন্য বরাদ্দ জমিতে অস্ত্র কারখানা তৈরি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত বার্তাও বহন করছে। বিশেষ করে ভারতের পূর্ব সীমান্তের এত কাছে একটি ডিফেন্স জ়োন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক ভাবেই দিল্লির উদ্বেগ বাড়াতে পারে।

এই মুহূর্তে নয়াদিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও, পর্দার আড়ালে যে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট। প্রশ্ন উঠছে—এই সিদ্ধান্ত কি শুধুই আর্থিক ও প্রতিরক্ষা নীতির অংশ, নাকি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকার নতুন কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত?

সব মিলিয়ে, মিরসরাইয়ের জমি ঘিরে এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি প্রকল্প বাতিল বা অনুমোদনের গল্প নয়—এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে এমন এক অধ্যায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত