শিল্পপতি মুকেশ অম্বানির কনিষ্ঠ-পুত্র অনন্ত অম্বানির বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাবার আগে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি আড়িয়াদহকাণ্ডের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খোলেন। সঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূলের নাম জড়িয়ে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে, এই ঘটনা যখন ঘটে তখন ওখানের এমপি ছিল অর্জুন সিংহ। মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগে পাল্টা উত্তর দিলেন বিজেপি নেতা।
বিগত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে উঠে আসছে গণপিটুনির ঘটনা। এরই মধ্যে আড়িয়াদহে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ গ্যাংস্টার জয়ন্ত সিংহ এবং তাঁর বাহিনীর একের পর এক ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। সম্প্রতি আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, তেরো বছরের একটি যুবককে ক্লাবের ভেতর নগ্ন করে তাঁর যৌনাঙ্গে সাঁড়াশির চাপ দেওয়া হচ্ছে! (ভিডিও-এর সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘উপনির্বাচনে তৃণমূলকে ড্যামেজ করতেই ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে পুরনো ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনা ২০২১ সালের। তখন ওখানে এমপি ছিলেন অর্জুন সিংহ।” আড়িয়াদহের নাম না নিলেও মুখ্যমন্ত্রী যে জয়ন্ত সিংহদের কাজকেই বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট।



এবার অর্জুন সিংহ বললেন, “আমাদের খুব দুর্ভাগ্য যে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোথায় ব্যারাকপুর আর কোথায় আড়িয়াদহ! উনি কী জানেন? এরা কেউ অর্জুন সিংহের লোক নয়। চোপড়ায় জেসিবি, সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহান, এখানে এই জয়ন্ত সিংহ, এরাই তৃণমূলের শক্তি।” উল্লেখ্য, আড়িয়াদহ মূলত কামারহাটি বিধানসভার অন্তর্গত, এবং দমদম লোকসভার মধ্যে। তবে, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের আওতাধীন।
আড়িয়াদহকাণ্ডে মমতার নিশানায় অর্জুন, পাল্টা কী বললেন বিজেপি নেতা?



আড়িয়াদহে মা ও ছেলেকে রাস্তায় ফেলে মারধর করে জয়ন্ত সিংহ ও তাঁর দলবল। গণপিটুনির অভিযোগে
জয়ন্ত-সহ গ্যাংয়ের মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে জয়ন্তদের আগের নানান কুকীর্তির ভিডিও প্রকাশ্যে আসছে। নাম জড়িয়েছে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের। ঘরোয়া অনুষ্ঠানে জয়ন্তের সঙ্গে ছবি দেখা গিয়েছে মদনের বউমা মেঘনা মিত্রের। কিন্তু, মদন জানিয়েছেন, তিনি চিনতেন এইটুকুই, ‘ঘনিষ্ঠ’ নয়।
এবার আবার হুমকি ফোন পেয়েছেন দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এবং মদন মিত্র। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা এই গুন্ডাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বলেই হুমকি ফোন দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, ঘটনার থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই তৃণমূল নেতারা এই ধরনের কথা বলছেন।







