রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে ফের আলোড়ন। শিবির পরিবর্তনের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি করলেন বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে তিনবার ফোন করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে ভুল এবং আইপ্যাকের প্রভাবের কারণেই তৃণমূলের পুরনো কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।
নব তৃণমূলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অনুব্রত। নতুন দায়িত্বের জন্য নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নিজের স্বার্থের কথা না ভেবে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর দাবি, বীরভূম ও বর্ধমানে দীর্ঘদিনের বাম শাসনের অবসানে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
এরপরই দলের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। অনুব্রতের অভিযোগ, দলের জন্য যাঁরা দীর্ঘদিন মাঠে নেমে কাজ করেছেন, তাঁদের গুরুত্ব না দিয়ে ভুল মানুষের উপর ভরসা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে সংগঠন দুর্বল হয়েছে এবং দল ক্ষতির মুখে পড়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের শিবির পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আগে জানিয়েছিলেন কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে অনুব্রত বলেন, তাঁর মতে সে ধরনের কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। তিনি দাবি করেন, কারাবন্দি থাকাকালীনও তাঁর নাম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার হয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, অতীতে একাধিক নির্বাচনে দলের সাফল্যে তাঁর অবদান থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অনুব্রত আরও বলেন, তাঁর কাছে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য কোনও ব্যক্তিকে তিনি গুরুত্ব দিতে চান না। তাঁর বক্তব্য, দলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সংগঠনের ভেতরে কী ঘটছে, তা আরও আগে নজরে আনা উচিত ছিল। সেই প্রসঙ্গেই তিনি দাবি করেন, আইপ্যাকের প্রভাব বাড়ার পর থেকেই দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হওয়া ফোনালাপের কথাও প্রকাশ্যে আনেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে তিনবার ফোন করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, দলেই থেকে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাবেন।
এদিন অনুব্রতের নাম জেলা সভাপতির পদে সমর্থন করেন কাজল শেখও। সেই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অনুব্রত বলেন, অতীতে দলীয় নির্দেশ মেনেই তিনি কাজল শেখকে নির্দিষ্ট সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার উপরই ভরসা করেন এবং দাবি করেন, বীরভূমের সাধারণ মানুষ এখনও তাঁর পাশেই রয়েছেন।
অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শিবির পরিবর্তনের পর তাঁর ধারাবাহিক বক্তব্য আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।






