২১ জুলাই সমাবেশে সবুজ সংকেত! গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনুমতি পেল ঋতব্রত শিবির, সোমবার থেকেই প্রস্তুতি

২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে জট কাটল ঋতব্রত শিবিরের। ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশের অনুমতি মিলেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। সোমবার থেকেই সভাস্থল পরিদর্শন ও প্রস্তুতি শুরু করবে ‘আসল’ তৃণমূল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হল। ‘আসল’ তৃণমূলের দাবি, ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের জন্য প্রশাসনের অনুমতি মিলেছে। সেই অনুমোদনের পরই প্রস্তুতি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঋতব্রত শিবির। দলীয় সূত্রের খবর, আগামী সোমবার নেতারা সভাস্থল পরিদর্শনে যাবেন এবং মঞ্চ-সহ অন্যান্য আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বর্তমানে ঋতব্রত শিবির এবং কালীঘাট শিবির—দুই পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করছে। ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে ধর্মতলায় সমাবেশ করার জন্য দুই পক্ষই কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন জানায়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট স্থানে একই দিনে একাধিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত শিবিরের প্রতিনিধিরা। সেই বৈঠকের পর গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সমাবেশ করার আবেদন জানানো হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, সেই আবেদনেই সম্মতি মিলেছে।

অন্যদিকে, ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি কালীঘাট শিবিরের। সমাবেশের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে তারা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ২১ জুলাই শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দলের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর ধর্মতলায় শহিদ দিবস পালন করা হয়। এই কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই দলের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাবেশ হিসেবে পরিচিত।

তবে এবারের ২১ জুলাইয়ের আবহ একেবারেই আলাদা। দলীয় বিভাজনের জেরে একই ঐতিহ্যবাহী কর্মসূচিকে ঘিরে দুই শিবিরের আলাদা অবস্থান রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। ঋতব্রত শিবির প্রস্তুতি শুরু করলেও কালীঘাট শিবির শেষ পর্যন্ত কোথায় কর্মসূচি করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রয়োজনে অন্য যেকোনও উপায়ে হলেও তিনি ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি পালন করবেন।

আরও পড়ুন