সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। এতদিন মূলত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হলেও, এবার সরকারি ও বেসরকারি—সব ধরনের স্কুলেও বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে টিকাকরণ করা হবে। এই লক্ষ্যে শনিবার নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৯৪০ জন কিশোরী এইচপিভি টিকা পেয়েছে। তবে গত কয়েক সপ্তাহে টিকাকরণের গতি আশানুরূপ না হওয়ায় কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় টিকাকরণের জন্য দুটি পৃথক মডেল চালুর কথা বলা হয়েছে। প্রথম মডেলে, ১৪ বছর বয়সি ছাত্রীদের নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারে নিয়ে গিয়ে টিকা দেওয়া হবে। এজন্য প্রতিটি স্কুলের সঙ্গে নিকটবর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় বা ম্যাপিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মডেল অনুযায়ী, কোনও সরকারি বা বেসরকারি স্কুলে যদি অন্তত ৫০ জন যোগ্য ছাত্রীর তালিকা তৈরি হয় এবং তাঁদের অভিভাবকদের লিখিত সম্মতি পাওয়া যায়, তাহলে সেই স্কুলেই বিশেষ এইচপিভি টিকাকরণ শিবির আয়োজন করা যাবে। এতে ছাত্রীরা নিজেদের স্কুলেই নিরাপদ পরিবেশে টিকা নেওয়ার সুযোগ পাবে।
টিকাকরণ শিবিরের আগে অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠক করা, লিখিত সম্মতিপত্র সংগ্রহ এবং সমস্ত যোগ্য ছাত্রীর নাম আগাম U-WIN পোর্টালে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
টিকাকরণের দিন একাধিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ভ্যাকসিনের কোল্ড চেন বজায় রাখা, কোনও ছাত্রীকে খালি পেটে টিকা না দেওয়া, টিকা নেওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য অ্যানাফাইল্যাক্সিস কিট ও অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখার নির্দেশ রয়েছে। এছাড়াও টিকাকরণের সমস্ত তথ্য রিয়েল-টাইমে U-WIN পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের আশা, স্কুলভিত্তিক এই নতুন উদ্যোগের ফলে আরও বেশি সংখ্যক ১৪ বছর বয়সি কিশোরীর কাছে এইচপিভি টিকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ।






