ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বড় অগ্রগতি! ভারতে এল বিশ্বের প্রথম সপ্তাহে একবার নেওয়ার ইনসুলিন, প্রতিদিন আর নয় ইঞ্জেকশন

ডেনমার্কের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা নোভো নরডিস্ক ভারতে চালু করল বিশ্বের প্রথম সাপ্তাহিক বেসাল ইনসুলিন ‘অ্যাউইকলি’ (ইনসুলিন আইকোডেক)। টাইপ–১ ও টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি নতুন চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ রোগীর জন্য বড় স্বস্তির খবর। ভারতে চালু হল বিশ্বের প্রথম সপ্তাহে একবার নেওয়া বেসাল ইনসুলিন। ডেনমার্কের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা নোভো নরডিস্ক বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আনল ‘অ্যাউইকলি’ (ইনসুলিন আইকোডেক)। এই নতুন ইনসুলিনের মাধ্যমে প্রতিদিন ইনসুলিন নেওয়ার পরিবর্তে সপ্তাহে মাত্র একবার ইনজেকশন নিলেই চলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ডায়াবেটিস চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

সংস্থার দাবি, অ্যাউইকলি বিশ্বের প্রথম ক্লিনিক্যালি অনুমোদিত সাপ্তাহিক বেসাল বা দীর্ঘ-কার্যকরী ইনসুলিন, যা টাইপ–১ এবং টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে বছরে ইনসুলিন ইনজেকশনের সংখ্যা ৩৬৫ থেকে কমে মাত্র ৫২-এ নেমে আসবে, যা রোগীদের চিকিৎসা মেনে চলা অনেক সহজ করে তুলতে পারে।

নয়াদিল্লিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোভো নরডিস্ক ইন্ডিয়া-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিক্রান্ত শ্রোত্রিয়া জানান, অ্যাউইকলির ৭০ ইউনিটের সাপ্তাহিক ডোজের মূল্য ২৬১ টাকা। বাজারে এটি দুটি পেন ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে।

একটি ১ মিলিলিটার (৭০০ ইউনিট) পেনের দাম রাখা হয়েছে ২,৬১১ টাকা। অন্যদিকে ৩ মিলিলিটার (২,১০০ ইউনিট) পেনের দাম ৭,৮৩৩ টাকা

সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এছাড়া প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ প্রি-ডায়াবেটিস অবস্থায় রয়েছেন। ফলে কার্যকর ও সহজ ইনসুলিন থেরাপির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

নোভো নরডিস্কের দাবি, ইনজেকশনের ভয়, ব্যথার আশঙ্কা এবং চিকিৎসার খরচের কারণে ভারতে অনেক রোগী গড়ে ৭ থেকে ৯ বছর দেরিতে ইনসুলিন থেরাপি শুরু করেন। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ ইনসুলিন ব্যবহার করছেন। আগামী দিনে এই সংখ্যা বেড়ে ৯০ লক্ষে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাপীও এই ওষুধ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। সংস্থার দাবি, ইনসুলিন আইকোডেক চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ একাধিক দেশেও এটি ব্যবহারের অনুমতি মিলেছে। ভারত হল বিশ্বের সপ্তম দেশ, যেখানে এই ইনসুলিন বাজারে আনা হল।

এদিকে গবেষণা সংস্থা আইএমএআরসি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং বংশগত কারণের জেরে ভারতের ইনসুলিন বাজার আগামী বছরগুলিতে আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। ২০২৫ সালে যেখানে এই বাজারের আকার প্রায় ৬৬০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, সেখানে ২০৩৪ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৯১৬.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই নতুন ইনসুলিন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। কোন রোগীর জন্য এটি উপযুক্ত হবে, ডোজ কত হবে এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হবে—সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকই নেবেন। তাই শুধুমাত্র নতুন প্রযুক্তির আকর্ষণে নিজে থেকে ওষুধ পরিবর্তন না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন