মালদা বিমানবন্দর ফের চালু করার লক্ষ্যে তৎপর রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় বিমান পরিষেবা শুরু করার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে বুধবার বিমানবন্দরে পৌঁছলেন ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি (Amlan Bhaduri)। জেলা প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরের পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন তিনি। পরিষেবা চালুর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক।
বুধবার সকালে বিমানবন্দরে গিয়ে রানওয়ে-সহ সামগ্রিক পরিকাঠামো পরিদর্শন করেন অম্লান ভাদুড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। বিমানবন্দর চত্বরে পরিকাঠামো, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং পরিষেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনাও হয়।
পরিদর্শনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় মালদা থেকে বিমান পরিষেবা চালুর লক্ষ্য নিয়েই রাজ্য সরকার কাজ শুরু করেছে। বিমানবন্দর চালুর আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, কোথায় আরও কাজ দরকার—এ দিন মূলত সেই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখা হয়েছে।
অম্লান ভাদুড়ির বক্তব্য, বিমান পরিষেবা দ্রুত চালু করার জন্য প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। বুধবারই পরিবহণ দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মালদা বিমানবন্দর সংক্রান্ত বিষয়গুলি উত্থাপন করার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকের আগে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বিমানবন্দর পরিদর্শনকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিধায়ক বলেন, জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলাশাসক থেকে শুরু করে একাধিক আধিকারিক এ দিনের পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দর চালু করার বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব পরিষেবা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।
মালদা বিমানবন্দরের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। ১৯৮২ সালে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সাংসদ গণি খান চৌধুরীর (A. B. A. Ghani Khan Choudhury) উদ্যোগে এই বিমানবন্দরে পরিষেবা শুরু হয়েছিল। কিন্তু যাত্রী পরিষেবা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র মাসখানেকের মধ্যেই বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এর পর থেকে দীর্ঘ সময় কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে মালদা বিমানবন্দর। মাঝেমধ্যে হেলিকপ্টার অবতরণ করলেও নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবা নেই। ফলে জেলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ এখনও তৈরি হয়নি।
মালদা পর্যটন, ব্যবসা এবং প্রশাসনিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ জেলা। কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়মিত মানুষ মালদায় আসেন। বিশেষ করে পর্যটন মরসুমে জেলার ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ে। বিমান পরিষেবা চালু হলে তাঁদের যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শুধু পর্যটন নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বিমান যোগাযোগের প্রভাব পড়তে পারে। জেলার আম-সহ কৃষিপণ্যের ব্যবসা, শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে কলকাতা ও অন্যান্য শহরে যাতায়াতও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মালদা বিমানবন্দর চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন জেলার বাসিন্দারা। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর ফের বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন তাঁরা। তবে পরিকাঠামো পরিদর্শনের পর এবার পরিষেবা চালুর বিষয়ে পরিবহণ দপ্তরের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই নজর মালদাবাসীর।



