কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যাতায়াতকারী লক্ষাধিক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। রবিবার, ১২ জুলাই, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে টানা ১৬ ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে দ্বিতীয় হুগলি সেতু বা বিদ্যাসাগর সেতু। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কোনও ধরনের যানবাহন সেতু দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। ইতিমধ্যেই বিকল্প রুটের নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ।
বিদ্যাসাগর সেতু কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক ও দূরপাল্লার যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে। দীর্ঘদিনের ভারী যানবাহনের চাপের কারণে এবার সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রযুক্তিগত সংস্কারের কাজ শুরু হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সেতুর স্টে কেবল (Stay Cable), হোল্ডিং ডাউন কেবল (Holding Down Cable) এবং বিয়ারিং (Bearing) প্রতিস্থাপনের মতো জটিল প্রকৌশলগত কাজের জন্যই সম্পূর্ণভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে। সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোন কোন রাস্তা ব্যবহার করবেন?
সেতু বন্ধ থাকায় কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে চলাচলকারী সমস্ত হালকা ও যাত্রীবাহী যানবাহনকে মূলত দুটি বিকল্প সেতু ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—
- রবীন্দ্র সেতু (হাওড়া ব্রিজ)
- নিবেদিতা সেতু
এই দুই সেতুর মাধ্যমে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যানবাহন চলাচল পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।
দূরপাল্লার গাড়ির জন্য নির্দেশ
মেদিনীপুর, খড়্গপুর, ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক কিংবা ডানকুনির দিক থেকে কলকাতামুখী ট্রাক ও দূরপাল্লার যানবাহনগুলিকেও বিদ্যাসাগর সেতু ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। পরিবর্তে সেগুলিকে রবীন্দ্র সেতু অথবা নিবেদিতা সেতুর মাধ্যমে কলকাতায় প্রবেশ করতে হবে।
একইভাবে কলকাতা থেকে হাওড়া বা পশ্চিমাঞ্চলের দিকে যাত্রা করা গাড়িগুলিকেও এই দুই বিকল্প রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
রবিবার দীর্ঘ সময় সেতু বন্ধ থাকায় বিকল্প সেতুগুলিতে অতিরিক্ত যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া এই রুট এড়িয়ে চলা অথবা যাত্রার জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। শহরবাসীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।



