বদলাচ্ছে সমীকরণ! বিবাদ সরিয়ে দলীয় বৈঠকে আমনে-সামনে অনুব্রত-শতাব্দী

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বদলাচ্ছে সমীকরণ! পুরানো তিক্ততা-ব্বিবাদ সব সরিয়ে তবে কি লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে ফের একসঙ্গে আলোচনায় বসে কাজ করতে চলেছেন তৃণমূলের এই দুই নেতা-নেত্রী। গতকালের পর এমনটাই ভাবছে ওয়াকিবহাল মহল। যাঁদের নিয়ে এই চর্চা তাঁরা হলেন বীরভূমের দোর্ডন্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মন্ডল আর অপরজন হলেন অভিনেত্রী থেকে নেত্রী হওয়া শতাব্দী রায়। গতকাল, রোববারে দুজনের উপস্থিতি দেখে তেমনটাই ভাবছেন সকলে।

আরও পড়ুনঃ মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তায় বঙ্গে ইঙ্গিত সপ্তাহ ভর বৃষ্টির, নাকি ইঙ্গিত ভোগান্তির

বোলপুরের রাজনীতির মাটিতে শক্ত ভিত অনুব্রত মন্ডল। তবে কেষ্ট দা আর শতাব্দীর মাঝখানের বিবাদ আর তিক্ততার কথা সর্বজন বিদিত। ভোটের ঠিক আগে আগে শতাব্দী যখন মাঝে মাঝেই দলের সম্পর্কে বেসুর গাইছিলেন, প্রতিবারই ক্ষোভের কারণ হিসেবে নাম উঠে এসেছিল অনুব্রতর। তবে রবিবারের বৈঠকে ঠিক তার বিপরীত চিত্র দেখা গেল। প্রায় তিন বছর পর দলীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা।

গতকাল বীরভুমের একাধিক দলীয় পদে রদবদল ঘটেছে। ভোটের আগেই অনুব্রত জানিয়ে ছিলেন দলে বা পদে থাকা আত্মতুষ্টি নয়, কাজ করে যেতে হবে। ভোটে দল হারলে দায়িত্ব নিতে হবে পদাধিকারী নেতাদের। ঠিক তাই ঘটেছে গতকাল। বীরভুমের যেসব জায়গায়, অর্থাৎ বুথে বা অঞ্চলে তৃণমূল হেরেছে বিজেপির কাছে, সেইসব জায়গার মুথ সভাপতি বা অঞ্চল সভাপতি পালটে দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে পুরসভার যে সব ওয়ার্ডে তৃণমূল হেরেছে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সরানোর পাশাপাশি ব্লক সভাপতিদের স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও বলা হয়েছে। এই বড়ো রদবদল প্রসঙ্গে খোদ কেষ্টদা জানিয়েছেন,  “সংগঠনই দলের শেষ কথা। দল করতে হলে দলকে জেতাতে হবে, পদ আঁকড়ে ধরে থাকলে হবে না। মাঠে নেমে লড়াই করতে হবে। আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই।”

বদলাচ্ছে সমীকরণ! বিবাদ সরিয়ে দলীয় বৈঠকে আমনে-সামনে অনুব্রত-শতাব্দী। গতকালের এই বৈঠকে দীর্ঘদিন বাদে উপস্থিত ছিলেন শতাব্দী রায়। তাঁর মতে অনুব্রতর সঙ্গে তিক্ততার কারণেই যে তিনি বীরভূমে আসেননা এমনটা নয়, কাজ থেকে যায় কখনো কখনো, তাই আসা হয়ে অঠেনা। তবে দুজনের কথোপকথনে ওয়াকিবহাল মহলের মত লোকসভা নির্বাচনের আগে আপাতত তিক্ততা দূরে ঠেলে রাখছেন দুজনেই। এদিকে গত এক দশকে প্রথম এতো রদবদল ঘটেছে বীরভূমের দলীয় পদে। তা থেকে সকলেই এক বাক্যে বলছেন লোকসভা নির্বাচনের জনই এতো কাজ। ২৪ এর ভোটের জন্য আর গড়িমসি করতে চাননা কেষ্ট দা। দলের ভেতরের সংগঠন ঝালিয়ে নিয়ে মাঠে নামছেন এখন থেকেই।

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত