ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঘোষিত হয়নি, কিন্তু রাজনীতির দাবার বোর্ডে চাল পড়তে শুরু করেছে। ভোটমুখী বাংলায় ফের পা রাখতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয়বার তাঁর রাজ্য সফর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আর সময় নষ্ট করতে চাইছে না বিজেপি। এবার জনসভা নয়, পুরো সফরের ফোকাস দলীয় সংগঠন, কর্মী সমন্বয় ও রণকৌশল স্থির করায়।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-এর সফরের পরেই অমিত শাহের আগমন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুক্রবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছে নিউ টাউনের একটি হোটেলে দলের কোর কমিটির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসবেন শাহ। ২০২৬-এর ভোটকে সামনে রেখে এই বৈঠকে চূড়ান্ত হবে রাজ্য বিজেপির নির্বাচনী রণকৌশল।


দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, শাহের সফরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক রয়েছে—একটি বারাসতে, অন্যটি শিলিগুড়িতে। শনিবার সকালে বারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠে বারাসতের কর্মী সম্মেলনে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর বিকেলে শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা তাঁর।
শুধু কর্মী সম্মেলনেই নয়, কোর কমিটির বৈঠকে ২৯৪টি বিধানসভা আসনের প্রার্থী তালিকা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনের শক্তি-দুর্বলতা এবং নেতৃত্বের দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরি হবে।
এদিকে বঙ্গ বিজেপির ইস্তাহার কমিটি ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক তাপস রায়কে চেয়ারম্যান করে। সেই কমিটির বৈঠকও এ দিন রয়েছে। তবে দলীয় সূত্রের খবর, রাতের কোর কমিটির বৈঠকেই বাংলার নির্বাচনী ইস্তাহারে কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, কী প্রতিশ্রুতি রাখা হবে—তার মূল দিকনির্দেশ ঠিক করে দেবেন অমিত শাহ নিজেই।


পরীক্ষার মরশুমে বড় জনসভা এড়িয়ে কর্মীসভাতেই জোর দিচ্ছে বিজেপি। সেই কারণেই শাহের এই সফরকে পুরোপুরি ‘সাংগঠনিক সফর’ হিসেবেই দেখছে দল। শিলিগুড়িতে কর্মী সম্মেলনের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করবেন তিনি।
শাহের সফর ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার বারাকপুরের আনন্দপুরী মাঠ পরিদর্শন করেছেন পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠে হাজির ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রের খবর, কলকাতায় থাকার সময় রাজ্য, জেলা ও মণ্ডল স্তরের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করতে পারেন অমিত শাহ। কার উপর কী দায়িত্ব বাড়বে, নির্বাচনী কমিটি গঠন হবে কি না, প্রচারের ভাষা ও কৌশল কী হবে—এই সমস্ত বিষয়েই তাঁর সফর থেকে স্পষ্ট বার্তা মিলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।








