১৬৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক – শিক্ষিকা নিয়োগে নজিরবিহীন বঞ্চনার অভিযোগ!

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১৬৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক – শিক্ষিকা নিয়োগে চরম বঞ্চনার অভিযোগ! চাকরি প্রার্থীদের অভিযোগ, নিয়োগে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত D.EL.Ed প্রার্থীদের বঞ্চিত করে প্রাথমিকের জন্য অর্ধ প্রশিক্ষিত B.ED প্রার্থীদের প্রাথমিকের শিক্ষকতার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলস্বরূপ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাকতার সুযোগ হারিয়েছে, রাজ্যের বহু সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত D.EL.Ed প্রার্থীরা।

আরও পড়ুনঃ উচ্চ-প্রাথমিক নিয়োগের ইন্টারভিউ লিস্ট কবে প্রকাশিত হবে? অপেক্ষা আর ৪৮ ঘন্টা।

পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক টেট ২০১৪ উত্তীর্ণ, বঞ্চিত NOT INCLUDED D.EL.Ed পরিবারের পক্ষ থেকে আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, “প্রাথমিকে শিক্ষকতা করার জন্য ডি.এল.এড প্রার্থীরাই একমাত্র সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত, তার কারণ বি .এড প্রার্থীরা প্রাথমিকে শিক্ষাকতা করার সুযোগ পেলেও তাদের আবারও ছয় মাসের ব্রিজ কোর্স করতে হয়, তবে তারা প্রাথমিকের ক্ষেত্রে ডি.এল.এড প্রার্থীদের সমতূল্য হতে পারে। তাই এক অর্থে তারা প্রাথমিকের জন্য অর্ধ প্রশিক্ষিত। তাহলে কিভাবে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের বঞ্চিত করে অর্ধ প্রশিক্ষিত বি.এড প্রার্থীরা প্রাথমিকে শিক্ষকতার সুযোগ পেতে পারে?”

আরও পড়ুনঃ বুধবার থেকে চালু হচ্ছে স্পেশাল মেট্রো পরিষেবা, কারা যাতায়াত করতে পারবেন এই মেট্রোতে? জেনে নিন

সংগঠনের সভানেত্রী মিতালী পাল দাবি করেন, “রাজ্যে যথেষ্ট পরিমাণে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত ডি.এল.এড প্রার্থী থাকা স্বত্ত্বেও প্রাথমিকের ক্ষেত্রে বি.এড প্রার্থীদের নিয়োগের ফলে ডি.এল.এড প্রার্থীরা একদিকে যেমন নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, পাশাপাশি ডি.এল.এড কোর্সটির প্রতি অবমাননা করা হয়েছে।” তার অভিযোগ, ২০১৮ সালের পরে পর্ষদের পক্ষ থেকেও ঘোষণা করা হয় “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাকতার ক্ষেত্রে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি D.EL.Ed” ডিগ্রীই বহাল থাকল। সেখানে কিভাবে নতুন নির্দেশিকা ছাড়াই ডি.এল.এড প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের প্রাথমিকের ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা যায়?”

১৬৫০০ শিক্ষক – শিক্ষিকা নিয়োগে ডি.এল.এড প্রার্থীদের সংখ্যা ছিল প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজারের কাছাকাছি। সেখান থেকে সিংহ ভাগ ডি.এল.এড প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেন, আর এক বঞ্চিত নট ইনক্লুড প্রার্থী মইজউদ্দিন আহমেদ। সংগঠনের সদস্য রাজু বণিক বলেন, “ডি.এল.এড এবং বি.এড এই দুটি কোর্সের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বি.এড প্রার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র- ছাত্রীদের শিক্ষাকতা করার জন্য প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন, অপরদিকে ডি.এল.এড প্রার্থীরা শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। ঠিক এই কারণেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলিও একমাত্র ডি.এল.এড প্রার্থীরাই তাঁদের প্রশিক্ষণে শিখে থাকেন। তাই ডি.এল.এড সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের প্রাথমিকের শিক্ষকতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে ডি.এল.এড প্রাথীদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করা হয়েছে।”

একদিকে করোনা অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, টিউশন বন্ধ, তীব্র আর্থিক সংকটে রাজ্যের বহু ২০১৪ প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, ডি.এল.এড প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা। দীর্ঘদিনের ডি.এল.এড প্রার্থীদের আন্দোলন ফলে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই ১৬৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক – শিক্ষিকা নিয়োগের ঘোষণা। কিন্তু সেখানে সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত ডি.এল.এড প্রাথীদেরকেই বঞ্চিত করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের একজন বঞ্চিত নট ইনক্লুডেড ডি.এল.এড প্রার্থী আব্দুল রহমান মল্লিক দাবি করেন, “এই ডি.এল.এড প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে অনেকের শেষ সম্বল জমি ,বাড়ি, মায়ের গয়না পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে, তবুও মেলেনি চাকরি। প্যানেল লিস্টে নাম না থাকায় অনেক ডি.এল.এড প্রার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। বাঁকুড়া জেলার সুবিকাশ রানা আর একজন বঞ্চিত ডি.এল.এড প্রার্থী দাবি করেন, বহু প্রার্থীদের বয়স ইতিমধ্যে ৪০ পার হয়ে গিয়েছে, তাদের আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কোন সুযোগ রইল না।”

লকডাউনের সময় প্রতিদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বঞ্চিত NOT INCLUDE D.EL.Ed প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে প্রচার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রত্যেক নট ইনক্লুডেড ডি.এল.এড প্রার্থীরা ভিডিও বার্তা প্রকাশের মধ্য দিয়ে নিজেদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পেজে তুলে ধরেছে।

১৬৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক – শিক্ষিকা নিয়োগে চরম বঞ্চনার অভিযোগ! মূলত এই সমস্ত ২০১৪ প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, ডি.এল.এড প্রশিক্ষিত প্রার্থীরা একটাই দাবি করছেন,১৬৫০০ প্রাথমিক শিক্ষক -শিক্ষিকা নিয়োগে যে সমস্ত ২০১৪ প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত NOT INCLUDED D.EL.Ed প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে, করোনা পরবর্তীতে তাঁদেরকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হোক, পাশাপাশি ডি.এল.এড প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে এই কোর্সটির গুরুত্ব অক্ষুন্ন রাখা হোক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর