হুমায়ুনের পাশে ওয়েইসি! বাংলায় JUP–মিম জোট ঘোষণা, নতুন সমীকরণে নড়ল রাজনীতি

রেজিনগরের সভা থেকে হুমায়ুন কবীরের JUP–এর সঙ্গে জোট ঘোষণা মিমের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বিজেপি–তৃণমূলকে একসূত্রে বেঁধে কটাক্ষ ইমরান সোলাঙ্কির।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার রাজনীতিতে বহুদিনের গুঞ্জন এ বার প্রকাশ্যে এল। শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের সভা থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবেই নির্বাচনী জোটের ঘোষণা করল AIMIM। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের Janta Unnayan Party (JUP)-এর পাশে দাঁড়ানোর কথা স্পষ্ট করে দিলেন মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করে পরিবর্তনের ডাক দিলেন তিনি। ফলে ২০২৬-এর আগে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হল।

শনিবারের সভায় ইমরান সোলাঙ্কি স্পষ্ট ভাষায় জানান, হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে মিম জোটবদ্ধ ভাবে নির্বাচনে লড়বে। যদিও আসন বণ্টন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি বলেই খবর। সেই প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে জোট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুনের সাক্ষাৎ কি তা হলে কোনও জোটের দিকেই এগোয়নি? নাকি বিরোধী শিবিরে জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ আরও জটিল হয়ে উঠছে?

উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন দল গঠনের পর প্রথমে হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১০০ আসনে লড়বে তাঁর দল। পরে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার হুঙ্কার দেন তিনি। একই সঙ্গে Asaduddin Owaisi-র নেতৃত্বাধীন মিমের সঙ্গে জোটের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে হায়দরাবাদে ওয়েইসির সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই রেজিনগরের সভা থেকে মিম কার্যত জোটে সিলমোহর দিল।

মমতাকে আক্রমণ, বিজেপি–তৃণমূল কটাক্ষ

সভামঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে তীব্র আক্রমণ করেন ইমরান সোলাঙ্কি। তাঁর অভিযোগ, “এই রাজ্যে বিজেপিকে নিয়ে এসেছেন মমতাই।” আরও এক ধাপ এগিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “আরএসএসের দুটি ফুল—বিজেপি আর তৃণমূল।”

ওয়াকফ আইন ও এসআইআর প্রসঙ্গ টেনে সোলাঙ্কির দাবি, “মমতা যা বলেন, তার উলটোটা করেন। বলেছিলেন ওয়াকফ আর এসআইআর চালু হতে দেবেন না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুটোই চালু হল।” তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সালে বিজেপিকে আটকাতে সংখ্যালঘুরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু এ বার রাজ্যের পরিবর্তনের জন্য সেই সমর্থন JUP ও মিমের দিকেই যাবে।

এ দিন সোলাঙ্কি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পদে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে নেতৃত্ব আসা উচিত। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে—২০২৬-এ হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি ও মিমকেই সমর্থন করা হবে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন–ওয়েইসি জোট ঘোষণার ফলে বাংলার রাজনীতিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হল। তৃণমূল, বিজেপির পাশাপাশি নতুন এই জোট কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝা যাবে ভোটের ময়দানেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত