নজরবন্দি ব্যুরো: ৫৫ বছর পর আবারও শুরু হল বাংলাদেশ-হলদীবাড়ি রেল পরিষেবা। কেটে গেছে ৫৫ বছর । ভারতের সঙ্গে রেলপথে বিচ্ছিন্ন পরিষেবা। কিন্ত বিজয় দিবসের ঠিক পরের দিনই আবার শুরু হতে চলেছে হলদিবাড়ি ও বাংলাদেশের নীলফামারীর চিলাহাটির মধ্যে বন্ধ থাকা রেল পরিষেবা। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকেই চলবে রেল।
আরও পড়ুনঃকাল থেকে নামতে পারে তাপমাত্রার পারদ!এই সপ্তাহের শেষেই কনকনে শীত পড়বে রাজ্যে।
প্রথমে পণ্যবাহী ট্রেন চললেও আগামী ২৬ মার্চ থেকে এ পথটি দিয়ে ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। রেলপথে দুই বাংলার সংযোগ স্থাপনের ওই মাহেন্দ্রক্ষণ ঘিরে চিলাহাটি রেলস্টেশন সেজেছে অপরূপ সাজে। আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এদিন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও মোদির মধ্যে ভারচুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে চারটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বেলা সাড়ে ১১ টায় অনুষ্ঠেয় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। ঢাকায় বিদেশ মন্ত্রক সূত্র জানায়, বৈঠকের আগেই দু’দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব চুক্তি ঘোষণা করা হবে।
যে চারটি চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো- দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা, দুই দেশে মধ্যে হাতি সংরক্ষণ সহযোগিতা, বরিশালে একটি পয়ঃনিষ্কাশণ প্ল্যান্ট তৈরি ও কমিউনিটি উন্নয়ন প্রকল্প। ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বড় পর্দায় দেখানো হবে চিলাহাটিতে স্থাপিত প্যান্ডেলে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রেলমন্ত্রী মহম্মদ নূরুল ইসলাম সুজন। ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত ভারতে যোগাযোগের অন্যতম রেলপথ ছিল চিলাহাটি-হলদিবাড়ী।
এই পথ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করত দার্জিলিং থেকে খুলনা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন। ওই রেল যোগাযোগকে ঘিরে চিলাহাটিতে গড়ে ওঠে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সে সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় মুখরিত চিলাহাটিতে গড়ে উঠেছিল মার্চেন্ট সমিতি। সেই মার্চেন্ট সমিতির হাত ধরে এলাকায় হয়েছিল বিভিন্ন উন্নয়ন। তারই নিদর্শন চিলাহাটি মার্চেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর পথটি বন্ধ করে দেওয়া হলে স্থবির হয়ে পড়ে নীলফামারী-সহ আশপাশের জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য। সেই থেকে ফের রেলপথ চালুর দাবি তোলে এলাকাবাসী। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর পথটি ফের চালুর উদ্যোগ নেয় দুই দেশের সরকার।
৫৫ বছর পর আবারও শুরু হল বাংলাদেশ-হলদীবাড়ি রেল পরিষেবা। নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশের ৬.৭২ কিলোমিটার রেললাইন বসানোর কাজ এরমধ্যে শেষ হয়েছে। ৮০ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ের ওই প্রকল্পে রেললাইন স্থাপন ছাড়াও বসানো হয়েছে চার কিলোমিটার লুপ লাইন, আটটি লেভেলক্রসিং ও ৯টি ব্রিজ-সহ অন্য পরিকাঠামো।



