নজরবন্দি ব্যুরোঃ তিনি বরাবরই মমতা বিরোধী। বাংলার রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অন্য দলের সঙ্গে সঙ্গে দিলেও মমতা ব্যানার্জির হাত ধরেননি কখনো। এমনকি গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনিই একমাত্র কংগ্রেস নেতা যিনি মুক্তকণ্ঠে মমতা বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি অধীর চৌধুরী।
আরও পড়ুনঃ সৌরভের জমি মামলায় বড় ধাক্কা, রাজ্য সরকার কে জরিমানা করল হাইকোর্ট।


আর এই মমতা বিরোধিতা করতে গিয়ে নিজের দলের অন্দরেই কম সমালোচিত হননি তিনি। রাজ্যে তাঁর সতীর্থ নেতারাই তার বিরুদ্ধে নালিশ করেছিলেন কেন্দ্রেকে। কিন্তু তিনি তার অবস্থান থেকে এক পাও পিছনে ফিরে আসেননি। তৃণমূল যখন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের জায়গায় যাচ্ছে তখন কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস থেকে নেতা-নেত্রী ভাঙিয়ে তৃণমূলে যোগদান করাচ্ছে।

ফলে ক্ষতি হচ্ছে জাতীয় কংগ্রেসেরই। এবং তা গোটা ভারতবর্ষে ব্যাপী। এহেন অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) একবার ফের মমতা ব্যানার্জি (Mamata Bannerjee) তথা তৃণমূল কংগ্রেসকে একহাত নিলেন। সোমবার বহরমপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অধীর বাবু বলেন, ‘কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোকে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি নোটিস পাঠাল তখন মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে চলে গেলেন।



সেখানে গিয়ে মোদির কাছে ভিক্ষা চেয়েছেন ভাইপোর যাতে কোনও ক্ষতি না হয়।’ অধীরবাবু আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, নিতিন গড়করি এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে তার ‘লাইন’ নেই।

ওই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ১৮ বছর আগের এক ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানান, “আরএসএসের (RSS) একটি অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জি অংশগ্রহণ করার পর তাঁকে দুর্গা সম্বোধন করে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতারা মমতা ব্যানার্জির প্রচুর প্রসংশা করেন এবং মমতা ব্যানার্জি বাংলাতে ক্ষমতা দখলের জন্য তাঁদের কাছ থেকে এক শতাংশ সাহায্য চান।

মোহন ভাগবতের জন্যই মমতার ভাইপো জেলের বাইরে! বিস্ফোরক অধীর

এর পরিবর্তে আরএসএস এবং বিজেপির তরফ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল মমতা ব্যানার্জিকে ভারত থেকে কংগ্রেসকে মুছে ফেলতে তাঁদেরকে সাহায্য করতে হবে। একটি সময়ে বিজেপি-র স্লোগান ছিল ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’। বিজেপি কখনও তৃণমূল মুক্ত ভারতের কথা বলেনি।’ এর পরেই তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মোহন ভাগবতের চাপেই এখনও মমতা ব্যানার্জির ভাইপো গ্রেপ্তার হননি।’







