তৃণমূলের সঙ্গে জোটের প্রস্তাবে নাকচ অধীরের

তৃণমূলের সঙ্গে জোটের প্রস্তাবে নাকচ অধীরের

নজরবন্দি ব্যুরো: তৃণমূলের সঙ্গে জোটের প্রস্তাবে নাকচ অধীরের, শিয়রে বঙ্গে বিধানসভা ভোট। এদিকে রাজ্যের ক্ষমতায় টিকে থাকতে মরিয়া তৃণমূল শিবির। যার ফলে এবার তৃণমূল নেতৃত্বের মুখে বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের বিজেপি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোটের প্রস্তাব। কিন্তু এবার তৃণমূলের সেই জোটের প্রস্তাবকে সপাটে নাকচ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শুক্রবার তিনি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। সেইসঙ্গে পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন তৃণমূল মিশে যাক কংগ্রেস দলে।

আরও পড়ুন: ২১-শের বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে কংগ্রেসকে ১০০টি আসন ছাড়তে পারে বামেরা

এ প্রসঙ্গে অধীর বলেন, ‘ তৃণমূলকে সমর্থন নয় বরং দলটা ডিসলভ করে কংগ্রেসে মিলিয়ে দিক।’ আসলে এই কংগ্রেস দল ভেঙেই তিলে তিলে এক সময় বাম বিরোধী হওয়া কাজে লাগিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। একই সঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে বামেদের ক্ষমতা চ্যুত করেছিল। সে সময়ে জোট সঙ্গী কংগ্রেসকে হাই কমান্ডের নির্দেশে পাশে পেলেও পরবর্তী কালে সেই কংগ্রেস দলকেই চূর্ন বিচূর্ণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অধীর সে সময় শত প্রচেষ্টা করেও তৃণমূলের সঙ্গে জোটে বাধা দিতে পারেনি। কারণ তখন কংগ্রেস হাই কমান্ডের সু নজরে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেই মমতাই পরবর্তী কালে ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ওপর থেকে নীচু তোলা সব কর্মীদের দলে নিয়ে তৃণমূলের সংগঠন চাঙ্গা করেছেন। তা কখনই ভোলা সম্ভব নয় অধীরের পক্ষে।তাই এদিন তৃণমূলের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান অধীর চৌধুরী।

রাজ্যের বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে বিজেপি বিরোধী হওয়া কে কাজে লাগাতে চাইছে মমতা শিবির। তাই বিজেপি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে গাঁট ছড়া বাঁধতে বদ্ধ পরিকর শাসক শিবির। কিন্তু সেদিন অধীর চৌধুরীর হতে ক্ষমতা ছিল না। তাই তৃণমূলের সঙ্গে জোট আটকাতে পারেনি কংগ্রেসের। কিন্তু অধীর এখন কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় মুখ। তাই এ সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজার চেষ্টা করলেও জোট হবে না বলে কার্য পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন অধীর। এদিন এ প্রসঙ্গে অধীর আরও বলেন, ‘ বরং দলের ছোট বড় নেতাদের দিয়ে বারবার না বলিয়ে মমতা ব্যানার্জী সোনিয়া গান্ধীর কাছে যেতে পারেন।’

তৃণমূলের সঙ্গে জোটের প্রস্তাবে নাকচ অধীরের, এদিকে আসন্ন নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়তে জোট বাঁধছে বাম-কংগ্রেস। তবে এদিকে বেশি আসন চেয়ে বসেছে কংগ্রেস। তাই বিজেপি–তৃণমূল কংগ্রেসের মোকাবিলায় ‘বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে’ নিজেদের ভাগ থেকে আরও বেশি আসন ছাড়তে প্রস্তুত সিপিএম। ফলে কংগ্রেসের জন্য ১০০টি আসনে বিধানসভা কেন্দ্র বণ্টনে ঘরোয়া হিসেব তৈরি করে ফেলেছে তারা। তবে এখনও পর্যন্ত এবিষয়ে কংগ্রেসের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাই বিধান ভবনের উত্তরের অপেক্ষায় বসে রয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x