নজরবন্দি ব্যুরো: মণিপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ। বাদল অধিবেশনের তৃতীয় দিনেই বিরোধী জোট অর্থাৎ নবনির্মিত ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদরা দফায় দফায় সংসদ চত্বরে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ জানালেন। সংসদের বাইরে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধর্নায় সামিল হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রমুখ। অন্যদিকে, কংগ্রেসের সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী মণিপুর নিয়ে একই কায়দায় বিক্ষোভ জানালেও তৃণমূলের থেকে অবস্থান দূরেই রাখলেন। সকলেরই একইটাই দাবি, মণিপুর নিয়ে সংসদে কিছু বলুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আরও পড়ুন: সেই একঘেয়ে পঞ্চায়েত মামলা! আবার নতুন আবেদন শুনে বিরক্ত প্রধান বিচারপতি


রাজ্যসভার বিধি মেনে এদিন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সংসদের চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকড়কে ২৬৭ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনার দাবি জানান। কী বলে এই ২৬৭ নম্বর অনুচ্ছেদ? এই অনুচ্ছেদ অনুসারে রাজ্যসভার কোনও সদস্য জরুরি এবং আপৎকালীন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে নোটিস দিতে পারেন। যদিও এখনও পর্যন্ত নোটিসটি গ্রহণ করেননি চেয়ারম্যান। অন্যদিকে আবার মণিপুরের পাল্টা রাজস্থান, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি সাংসদরা।
#WATCH | TMC MP Abhishek Banerjee, says “The visuals that we have seen are extremely disturbing. You (PM Modi) do not want discussion in the Parliament… The Govt is diverting the attention. The double engine govt is incompetent” pic.twitter.com/MjVmPA4ijr
— ANI (@ANI) July 24, 2023
এদিন সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর সময় অভিষেক এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘মণিপুরের ঘটনা থেকে নজর ঘোরাতে রাজস্থান, বাংলার প্রসঙ্গ তুলে আনছেন বিজেপি নেতা, মন্ত্রীরা। কিন্তু তাতে লাভ নেই। মণিপুর যদি এতই শান্ত হবে, তবে সেখানে ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে হয়েছে কেন? বাংলা আর মণিপুরের পরিস্থিতি যদি একই হবে, তবে তো বাংলাতেও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কথা। কী ঘটছে, সকলেই তা বুঝতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রী কোনও প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেন না। ২০২২-এর মধ্যে দেশের সবার মাথার উপর ছাদ থাকবে। কিন্তু এখনও কত মানুষ ছাদহীন। আর এদিকে কত টাকা খরচ করে নতুন সংসদ ভবন তৈরি হয়েছে। লজ্জায় মাথায় হেঁট হয়ে যায়।’ বিরোধী দলের প্রত্যেকেই এদিন বিক্ষোভ দেখানোর সময় হাতে ‘ইন্ডিয়া’র প্ল্যাকার্ড রেখেছিলেন। অধীর রঞ্জন চৌধুরীও তৃণমূলের থেকে আলাদা অবস্থানে বিক্ষোভ জানালেও তাঁর হাতেও ছিল ‘ইন্ডিয়া’র প্ল্যাকার্ড।

অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সংসদের বাইরে মুখ খুলেছেন। কিন্তু এটা কোনও রেওয়াজ নয়। উনি সংসদের ভিতরে মণিপুর নিয়ে মুখ খুলুন’।

মণিপুর নিয়ে উত্তাল সংসদ, ধর্নায় অভিষেক, পাশে থেকেও দূরে অধীর!











