২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দল নিজেদের কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল একাই লড়বে, কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও জোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “দিদি তো বলেই দিয়েছেন, আমরা আগের নির্বাচনে একাই লড়েছি এবং ভালো ফলও করেছি। তাই এই নির্বাচনে তৃণমূল একাই লড়বে।” তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসের সাথে জোটের সম্ভাবনা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন, “গত লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীরা ইন্ডিয়া জোট তৈরি করলেও রাজ্যে তৃণমূল একাই লড়েছিল এবং তাতে ভাল ফল এসেছে।”


বিজেপির সমালোচনা:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের একক লড়াইয়ের কথা ঘোষণা করার পাশাপাশি বিজেপিকেও এক হাত নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি তো বলেছিল ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৪টি আসন তারা জিতবে। তাদের কথা আর কাজের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তারা তো একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বলেছিল ২০০ আসন পাবে, কিন্তু তাদের আসন সংখ্যা ১৮ থেকে ১২-এ নেমে গেছে। লোকসভা নির্বাচনে তারা বলেছিল ৩০টি আসন পাবে, কিন্তু তারা মাত্র ১৮টি আসন পেয়েছে।”
তৃণমূলের শক্তি:


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের মাধ্যমে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, তৃণমূল কংগ্রেসের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও জোট হবে না। তৃণমূল একাই নির্বাচন লড়বে, এবং তাদের লক্ষ্য হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা এবং রাজ্যে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠিত রাখা।
রাজ্যে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, তৃণমূল এককভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে তারা একাই লড়তে চায়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তৃণমূলের একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বড় পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সাথে জোটের সম্ভাবনা একেবারে খারিজ হয়ে গেলো এবং তৃণমূলের একক লড়াইয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো।







