‘নারীদের ভয় দেখিয়ে ভোট আটকানো মধ্যযুগীয় বর্বরতা’, বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

‘স্ত্রীদের ঘরে আটকে রাখার’ মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও নারী ক্ষমতায়ন ইস্যুতে মুখোমুখি তৃণমূল–বিজেপি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিজেপি নেতার এক মন্তব্য ঘিরে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দন্তনে একটি সভায় বিজেপি নেতা কালিপদ সেনগুপ্তের ‘স্ত্রীদের ঘরে আটকে রাখার’ মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়টিকে নারীবিদ্বেষী ও সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ বলে আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী বলেছেন বিজেপি নেতা

শনিবার দন্তনের সভায় কালিপদ সেনগুপ্ত বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মহিলারা তৃণমূলকে ভোট দিতে পারেন—এই আশঙ্কায় তাঁদের স্বামীদের উচিত স্ত্রীদের ‘লক অ্যান্ড কি’-এর মধ্যে রাখা। সভায় পরে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, যদিও তিনি এই মন্তব্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি।

অভিষেকের কড়া পাল্টা বার্তা

এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে সমাজমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই ‘বাংলা-বিরোধী টুলকিট’ ব্যবহার করছে। এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার বাদ দেওয়ার চেষ্টা যেমন চলছে, তেমনই এবার তারা নারীদের ভয় দেখিয়ে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পথে নেমেছে।

অভিষেকের ভাষায়, “ক্ষমতায়িত নারীরা বিজেপির কাছে হুমকি। তাই মধ্যযুগীয় পিতৃতান্ত্রিক বর্বরতার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই রাজ্যের নারীরা ভয় পান না।”

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েও অভিযোগ

অভিষেক আরও দাবি করেন, বিজেপি শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ করার হুমকিই দেয়নি, রাজ্যের হিন্দু বাঙালিদের ‘৫০ টাকায় বিক্রি হয়ে যাওয়া’ বলেও কটাক্ষ করেছে। নারীদের সরাসরি আর্থিক সাহায্যকে ‘ভিক্ষা’ বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ তৃণমূলের।

‘২০২৬-এ জবাব দেবে বাংলার মেয়েরা’

অভিষেক স্পষ্ট বলেন, “২০২৬ সালে বাংলার মেয়েরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিজেপির বাংলা-বিরোধী ও নারী-বিরোধী রাজনীতিকে চিরতরে সমাধিস্থ করবে।”

মন্ত্রীরাও সরব

রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী শশী পাঁজা এই মন্তব্যকে ‘অশালীন ও অপমানজনক’ বলে নিন্দা করেন। তাঁর কথায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের ভিখারি বলা হয়েছে। বাংলার নারীরা ভোটের মাধ্যমেই এর জবাব দিয়েছেন—আর বিজেপি সেটাই ভয় পাচ্ছে।”

একই সুরে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলার উন্নয়নের চালিকাশক্তি নারীরাই। তাঁদের অপমান নীরবে সহ্য করা হবে না।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নারী ভোটব্যাঙ্ক ও সামাজিক প্রকল্প ঘিরে এই সংঘাত আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও তীব্র হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর