২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা-ভিত্তিক প্রচারের সূচনা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন দলের নির্বাচনী লক্ষ্য—ভাঙড় জিততেই হবে, আর জেলায় ৩১টির মধ্যে ৩১টি আসন দখল করতে হবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই শুরু কেন
মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, কালীঘাট তাঁর জন্মভূমি হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা তাঁর কর্মভূমি। এই জেলা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি—তিন বার সরকার গঠনে যার বড় ভূমিকা রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই এখান থেকে প্রচার শুরু করার সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।


ভোট অঙ্কে ভাঙড়ের গুরুত্ব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ দিনের বক্তব্যে ভাঙড়কে ২০২৬-এর ‘টার্গেট সিট’ হিসেবে স্পষ্ট করেছেন অভিষেক। তাঁর কথায়, ২০২১-এ তৃণমূল ২১৪টি আসন জিতেছিল; এবার অন্তত একটি হলেও আসন বাড়াতে হবে—আর সেই বাড়তি আসন যেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই আসে। গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে প্রয়োজনীয় সব জায়গায় সভা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
মোদী–শাহকে সরাসরি আক্রমণ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর ‘সোনার বাংলা’ বক্তব্যের পাল্টা প্রশ্ন তোলেন অভিষেক—ত্রিপুরা, অসম বা বিহারে কেন ‘সোনার রাজ্য’ গড়ে উঠছে না? মধ্যপ্রদেশে পানীয় জল সংক্রান্ত ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে সরকার ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে পারে না, তাদের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কেও নিশানা করে চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। হিসাব কষে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, ১১ বছরে যদি কোনও এক বিধানসভায় ৫ হাজার চাকরির প্রমাণ দেখানো যায়, তবে তিনি রাজনীতি ছাড়বেন।


জনকল্যাণে পাল্টা চ্যালেঞ্জ
বিজেপির তরফে জনকল্যাণ প্রকল্প চালু রাখার আশ্বাসের পাল্টা অভিষেক বলেন, বিজেপি-শাসিত কোনও রাজ্যে যদি বাংলার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো নিঃশর্ত সহায়তা চালু হয়, তবে তিনি রাজনীতি ছাড়তে প্রস্তুত। মহারাষ্ট্রে ভেরিফিকেশনের নামে বহু মানুষকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
অডিয়ো ক্লিপ শুনিয়ে তোপ
মঞ্চ থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ-এর অডিয়ো ক্লিপ শোনান অভিষেক। ক্লিপে উঠে আসা মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, এসব বক্তব্য বিজেপির অবস্থানকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা স্পষ্ট—২০২৬-এ তৃণমূলের লক্ষ্য আসন বাড়ানো, ভাঙড় জয় এবং জেলায় ‘৩১-এ ৩১’ নিশ্চিত করা। ভোট যত এগোবে, রাজনৈতিক আক্রমণের ধার যে আরও তীব্র হবে, তার ইঙ্গিতও মিলল এই সভা থেকেই।







