বিগত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে শিরোনামে সন্দেশখালি। এরই মধ্যে দু’টি স্টিং ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। রবিবার নির্বাচনের মধ্যেই সন্দেশখালিতে শুরু হল নতুন করে অশান্তি। ভিডিও ভাইরালের কারণে তৃণমূলের এক নেতাকে বাড়ি থেকে বের করে মারধর করলেন মহিলারা। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু, সব মিলিয়ে সন্দেশখালি যে আবার রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করেছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।


সন্দেশখালির বিজেপি মণ্ডল সভাপতি গঙ্গাধর কয়ালের দ্বিতীয় ভিডিও প্রকাশ পেল। প্রথম ভিডিও থেকে জানা যায়, সন্দেশখালির আন্দোলন পুরোটাই সাজানো এবং তা হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে। (যদিও দু’টি ভিডিও-র সত্যতাই যাচাই করেনি নজরবন্দি) এবার নতুন ভিডিও থেকে জানা গেল আরও বিস্ফোরক সব তথ্য!
মহিলাদের ওপর অত্যাচার থেকে শুরু করে জমি-ভেড়ি দখল, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের অভিযোগের তালিকাটা বেশ লম্বা। কিন্তু, মাত্র এক সপ্তাহ আগে একটি স্টিং ভিডিও প্রকাশ পায় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি গঙ্গাধর কয়ালের। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এই আন্দোলন পুরোটাই সাজানো। সন্দেশখালিতে ধর্ষণের ঘটনাই ঘটেনি।



এবারের দ্বিতীয় ভিডিও-তে গঙ্গাধর আরও অনেক কিছু বলেন। তিনি মোট ৫০টি বুথের জন্য আড়াই লাখ টাকার মদ লাগবে বলে জানান। প্রতি বুথ ৫ হাজার। বলেন, টাকা ছাড়া কেউ কাজ করবে না। তিনি নিজের জন্য চান ১ লাখ টাকা। পাশাপাশি, মোট ৫০টি পিস্তলের দাবি জানানো হয়।
ধর্ষণের অভিযোগ জানানোর জন্য মোট ৭২ জন মহিলাকে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন বিজেপি নেতা। উঠে আসে শান্তনু বলে আর এক জনের কথা। তাঁর এলাকায় মহিলারা ৫ হাজার টাকা করে পেয়েছেন বলে জানা যায়।

মদ-টাকা-পিস্তল ছাড়াও গঙ্গাধর বলেন ১০টি মোবাইল ফোন দরকার। মহিলাদের কাজে লাগানোর জন্য। পাশাপাশি, পুরুষদের ব্যবহার করতে গেলে বাইকের তেল, টিফিন ইত্যাদি দিতে হবে বলেও জানান তিনি। মোট ৫০ জন মহিলাকে সন্দেশখালি ব্লক-২ থেকে তিনি ‘তৈরি’ করবেন বলে কথাও দেন এবং তাঁদের নাম ভিডিও-র প্রশ্নকর্তাকে জানান।
নতুন করে উত্তপ্ত সন্দেশখালি, ভিডিও ভাইরালের কারণে তৃণমূল নেতাকে মাটিতে ফেলে মারধর!
রবিবার বিতর্কের মধ্যেই বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র এবং বিজেপি নেত্রী অর্চনা মজুমদারের নেতৃত্বে সন্দেশখালি থানা ঘেরাও করা হয়। তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো এবং তৃণমূল নেতা দিলীপ মল্লিক গ্রামেরই একটি বাড়িতে রয়েছেন বলেই খবর পান স্থানীয় মহিলারা। সেই বাড়ির সামনে পৌঁছন রণংদেহী মহিলারা। বাড়ি থেকে টেনে বের করা হয় এক তৃণমূল নেতাকে। বাঁশ, লাঠি হাতে মহিলারা তৃণমূল নেতার উপর চড়াও হন।

স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, বিধায়কের যোগসাজশে ওই তৃণমূল নেতারা ফেক ভিডিও তৈরি করছেন। পরে তা সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে বিক্ষোভ। চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিজেপি বিভ্রান্ত বলে পাল্টা তৃণমূল।







